ফিলিস্তিনে গণহত্যা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ২০:৫২ পিএম
মধ্য গাজায় ছয় দিনব্যাপী অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক
বাহিনী। দেশটির ৯৮ পদাতিক বাহিনী গাজার পূর্বদিকে অবস্থিত বেরুজি ক্যাম্প এবং দেইর
আল বালাহতে ৫ জুন হামাস অপহৃত বন্দি উদ্ধারের অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে শনিবার আল
নুসেইরাত ক্যাম্পের অভিযানে ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭০০-এরও বেশি আহত হন। ইসরায়েলি
সামরিক বাহিনীর ওপর এই অভিযানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হলেও
তারা এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। অভিযান বন্ধ ঘোষণার আগ থেকেই গাজায় উদ্ধারকর্মীরা অভিযান
পরিচালনা করছে এবং রাফা তাল এস সুলতান এলাকার ধ্বংসস্তূপে আরও তিন ফিলিস্তিনির মরদেহ
উদ্ধার করেছে। হামাসের সূত্র অনুসারে, উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলি বন্দিদের কয়েকজনও নিহত
হয়েছেন। ইসরায়েলের এখনও বারোজন নাগরিক হামাসের কাছে বন্দি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দেওয়া গাজায় তিন
পর্যায়ের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। জাতিসংঘের
নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪টি এ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের
পক্ষে ভোট দিয়েছে। প্রস্তাবনা পাসের সফলতা নিয়ে শঙ্কা থাকায় রাশিয়া ভোট দেওয়া থেকে
বিরত থেকেছে।
হামাস জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত
হয়েছে। গত সোমবার হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু যুহরি এ বিষয়ে জানিয়েছেন। ভোটের
পর এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, এটি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
যুদ্ধবিরতির চুক্তির মূলনীতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরোক্ষ আলোচনায়ও বসতে প্রস্তুত গোষ্ঠীটি। তিনি
আরও জানান, ইসরায়েলের তরফে প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায় যুক্তরাষ্ট্রের।
যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এই প্রস্তাবনা মেনে নিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে
এই প্রস্তাবনা পাস হওয়ায় বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভুক্ত। তাই ইসরায়েলের
ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসকে
নির্মূল করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক হাসান
বারিরি জানান, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনেক ইতিবাচক। কিন্তু প্রস্তাবনা
বাস্তবায়নে এখনও অনেক সময় বাকি। প্রস্তাবনা অনুসারে প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি
থাকবে। এ সময় বন্দিবিনিময়ের বিষয়ে রাজি হয়েছে হামাস। তবে বারিরির মতে, দ্বিতীয় ধাপটি
সবচেয়ে জটিল। ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দিতে রাজি হবে না। তিনি জানান, ‘ইসরায়েলের
তরফে কোনো বক্তব্য না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। বিশেষত সম্প্রতি তাদের
মন্ত্রিসভা থেকে একজন পদত্যাগ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।’
ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, দেশটির সরকারের
কট্টর ডানপন্থি নেতারা প্রথম ধাপের পর পূর্ণোদ্যমে যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে বারবার তাগাদা
দিয়ে আসছে। ফলে দ্বিতীয় ধাপে প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনও ইসরায়েলিদের ওপর নির্ভর
করছে।
গত বছর ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত
৩৭ হাজার ১৬৪ জন নিহত এবং ৮৪ হাজার ৮৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য
মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে গাজায় খাদ্যসংকটের বিষয়টিকে জোর দিয়ে একাধিক উদ্ধৃতি
দিয়েছে। অভিযান বন্ধের ঘোষণা আসার পরও গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নানা
প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা