ভারত
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২২:৫২ পিএম
কংগ্রেস নেতাদের এক বৈঠকে শনিবার সর্বসম্মতভাবে রাহুল গান্ধীকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে
প্রায় এক দশক পর ভারতের লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা আসছেন। কংগ্রেস নেতাদের এক বৈঠকে শনিবার সর্বসম্মতভাবে রাহুল গান্ধীকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতারা জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হবে। ইতোমধ্যে ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক শিবসেনার সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত রাহুলকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা ২০১৪ সাল থেকে বিরোধীদলীয় নেতাশূন্য ছিল। নিয়ম অনুযায়ী লোকসভায় বিরোধী নেতা হওয়ার জন্য কোনো একক দলকে মোট ৫৪৩ আসনের অন্তত ১০ শতাংশ পেতে হয়। গত দুই লোকসভার নির্বাচনে কংগ্রেস বা অন্য কোনো দল তা পূরণ করতে পারেনি।
লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একা ৯৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। পাশাপাশি দুই
স্বতন্ত্র এমপি কংগ্রেসকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে সাকল্যে কংগ্রেসের আসন
দাঁড়াচ্ছে ১০১। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির পর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনধারী দল
কংগ্রেসের নবজাগরণের কান্ডারি রাহুল ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন।
২০১৯ সালের লোকসভা
নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। ওই সময় ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে দলটির সভাপতির পদ
থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঘুরে
দাঁড়ানোর বড় কৃতিত্ব তার বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মূলত নির্বাচনী
প্রচারণায় ভোটারের সমর্থন আদায়ের জন্য রাহুলের রাজনৈতিক কৌশলের প্রশংসা করেন
অনেকে। তবে অনেকের মতে, রাহুল কয়েক বছর ধরেই এই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ২০২২-২৩ সালে
‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র মাধ্যমে তিনি আবার ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে শুরু করেন। কন্যাকুমারী
থেকে কাশ্মির পর্যন্ত তার পদযাত্রার এই রাজনৈতিক কর্মপদক্ষেপকে অনেকে উচ্চাভিলাষী
ভেবেছিলেন। তবে ওই সময় জনসংযোগ ও ভোটারদের বাস্তবিক অবস্থা তাকে লোকসভা নির্বাচনের
প্রচারাভিযানের অস্ত্র নির্ধারণে সহায়তা করেছে।
বিশেষত ইন্ডিয়া জোটের
নেতৃত্ব দেওয়ার ফলে কংগ্রেস ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের দলগুলোকে একত্রিত করতে পেরেছে।
স্থানীয় রাজনীতির শঙ্কামুক্ত হয়েই তিনি নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালাতে পেরেছেন।
বিহার, মহারাষ্ট্র এবং উত্তর প্রদেশের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করার ফলও
পেলেন হাতেনাতে। ভারতের রাজনীতিতে বর্ণবাদ ও জাতিভিত্তিক প্রভাবও বহু দিনের।
কংগ্রেসের রাজনীতিতেও এর প্রভাব ছিল, যাতে সামান্য বদল এনেছেন রাহুল। বর্ণভিত্তিক
শুমারি পরিচালনা এবং প্রত্যেকের অবস্থান অনুসারে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবিও
অনেক ভোটারের মন আকর্ষণ করেছে। বিশেষত মুসলমান ও দলিত সম্প্রদায়ের ভোটারদের সমর্থন
পেয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায়
রাহুল গান্ধী ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে বাড়তি জোর দিয়েছিলেন। বেকারত্ব,
কৃষকদের সংকট, আয়বৈষম্য, মূল্যস্ফীতিÑ এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ায় তরুণ ভোটারদের
মনোযোগও তিনি আকর্ষণ করতে পেরেছেন। বিগত বছরের তুলনায় জনসংযোগেও রাহুল বড় পরিবর্তন
এনেছিলেন।
কংগ্রেসের অবশ্য
তাদের নবজাগরণে আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো
সংখ্যাগরিষ্ঠতা হওয়ার মতো ভোট বা সমর্থন রাহুল পাননি। দলটির সামনে এখন রয়েছে কিছু
চ্যালেঞ্জ। ইন্ডিয়া জোটকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়া ও একত্রিত রাখার বিষয়টি নিয়ে তাদের
ভাবতে হবে। এখনও সমগ্র ভারতে দলটির রাজনৈতিক বিস্তার পুরোপুরি হয়নি। তবে কংগ্রেস
রাহুলের অধ্যবসায় ও নেতৃত্বে আরেকটি লাইফলাইন যে পেয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।