এনডিএর বৈঠক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৬:৩৪ পিএম
নরেন্দ্র মোদিকে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) শরীকরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। নয়াদিল্লির সংবিধান ভবনে শুক্রবার (৭ জুন) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার গঠনে নিরঙ্কুশ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এবার বিজেপিকে জোটসঙ্গীদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। মিত্রদের
সঙ্গে দরকষাকষি করেই চলতে হচ্ছে তাদের। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম
পার্টির নেতা এন চন্দ্রবাবু নাইডু এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জেডিইউ নেতা নীতিশ কুমারকে
‘কিংমেকার’ বলে অভিহিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
দ্য স্টেটসম্যান। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বাগাতে নাইডু-নীতিশ দুজনই বিজেপির সঙ্গে
কঠিন দরকষাকষি করেছেনÑ যার মধ্যস্থতা এনডিএর বৈঠকেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও
কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোকসভার ১৬ আসন পাওয়া চন্দ্রবাবু
নাইডু অর্থ মন্ত্রণালয়সহ পাঁচটি মন্ত্রণালয় দাবি করেছেন। এ ছাড়া লোকসভার স্পিকারের
পদের দাবিও তারা করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, সড়ক, পঞ্চায়েত রাজ, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার
মতো মন্ত্রণালয়ের দিকে নাইডুর নজর রয়েছে। লোকসভার ১২ আসন দখলে নিয়ে নিজের দর হাঁকাচ্ছেন
নীতিশ। রেল মন্ত্রণালয় নীতিশের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। দরকষাকষির এই সময়ে বিরোধী দল
তাই স্লোগান দিচ্ছেন, ‘সব কা সাথ, মোদি কা বিকাশ’ (সবার সাথেই মোদির বিকাশ)।
টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার
ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে মোদির রাজনৈতিক ম্যাজিক যেন ম্লান হয়ে গেছে। এনডিএর নেতা হিসেবে
নরেন্দ্র মোদি গতকাল শুক্রবার এক বৈঠক করেন। জোট সরকার গঠন করায় এবার এনডিএর রাজনৈতিক
স্লোগান ঈষৎ মোচড় নিয়েছে। এই জোট সরকারে ‘সর্ব পান্থ
সম্ভাবা’ (সবাই সমান)
প্রতিশ্রুতিই প্রধান। এনডিএর অধিকাংশ শরিক নেতা মোদির প্রশস্তি গেয়েছেন বটে, কিন্তু
এনডিএ তো বটেই, বিজেপির নেতাদের সঙ্গেও মোদির সম্পর্ক যে ভালো নয় তা বিরোধী দলের অনেকেই
নিশ্চিত হয়ে গেছেন। নীতিশ কুমার ইতোমধ্যে বিহারে স্পেশাল ক্যাটাগরি স্ট্যাটাসের (এসসিএস)
দাবি জানিয়েছেন। যেহেতু তারা জোট সরকারে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত
হয়েছে তাই এমন দাবি প্রাসঙ্গিক বলেই জানিয়েছেন।
বিজেপির সূত্রের দাবি, সংঘ-ঘনিষ্ঠ নীতিন গডকড়ীর মতো নেতারা মোদী-শাহের উপর
চাপ তৈরি করতে পারেন। মন্ত্রিসভা বদলের দাবি উঠতে পারে বিজেপিরই ভেতর থেকেই। কারণ,
বিজেপিরই একাংশ মনে করছে, এনডিএ জোট জিতলেও এই ভোট মোদি-শাহের বিরুদ্ধে গেছে।
শুক্রবার এনডিএর বৈঠকে মোদির পরিবর্তে
এনডিএর ‘মাহাত্ম্য’ প্রচারই ছিল
বড় চমক। নিজেকে তুলে ধরার জন্য সকলের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে মোদিকে। তবে আপাতত প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে এনডিএ মোদির ওপরই আস্থা রেখেছে। বৈঠকে বিজেপি এবং সহযোগী দলগুলোর লোকসভা সাংসদদের
পাশাপাশি ‘আমন্ত্রিত’ তালিকায় ছিলেন
রাজ্যসভা সাংসদরাও। আমন্ত্রিত ছিলেন বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
একেবারে সামনের সারিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
নরেন্দ্র মোদি
বৈঠকে তার বক্তৃতায় জানিয়েছেন, আগামী দশ বছরে এনডিএ সরকার ভারতকে উন্নত দেশে রূপায়নের
স্বপ্ন বাস্তব করে তুলবে। মোদি বলেন, এনডিএর শরিকদের মধ্যে আস্থাকে পুঁজি করেই সরকার
তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।
দশ বছর পর কেন্দ্রে
জোট সরকার ক্ষমতায় বসতে চলেছে। জোটনির্ভর সেই সরকার কতটা সুস্থির হবে তা নিয়ে যখন এরই
মধ্যে বিরোধীরা সংশয় প্রকাশ করতে শুরু করেছে, তখন এনডিএ বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির পাশে
মজবুতভাবেই দাঁড়ালেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা সংযুক্ত জনতা দলের নেতা নীতিশ কুমার।
শুক্রবার এনডিএর বৈঠকের আগে অবশ্য মোদি বিজেপির একনিষ্ঠ নেতা এলকে আদভানি এবং মুরলি
মনোহারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দের সঙ্গেও
সাক্ষাৎ করে পরামর্শ নিয়েছেন তিনি।
আবারও প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিদেশি অভ্যাগতদের আগমনের কথা বিবেচনা করে তার শপথ একদিন পিছিয়েছে। তবে সবার নজর ছিল এনডিএর বৈঠকেই। বৈঠকে সবাই মোদির প্রশস্তি গাইলেও এনডিএর রাজনীতি যে আর মোদিকেন্দ্রিক নয় তা স্পষ্ট।
সূত্র : হিন্দু, দ্য ওয়াল