সুদানে গৃহযুদ্ধ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৬:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সুদানে চলমান
গৃহযুদ্ধে শরণার্থীদের তাঁবুতে আচমকা গুলিবর্ষণের পর প্রায় ৮ হাজার মানুষ কুমের ও আওয়ালা
ক্যাম্প ছেড়ে ইথিওপিয়া সীমান্তের বনে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর
ইথিওপিয়ার উত্তরে আমহারা অঞ্চলে জাতিসংঘ অস্থায়ী শরণার্থী শিবির স্থাপন করে। বিগত কয়েক
মাসে শরণার্থী শিবিরে ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে
সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্যারামিলিটারি গ্রুপ র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ)
সংঘাত বাধে। দারফুর অঞ্চলে তখন সামরিক বাহিনী গণহত্যা চালায়। আমহারা অঞ্চলের ক্যাম্পে
অনেকেই আশ্রয় নেয়। কিন্তু সম্প্রতি সুদানের ফেডারেল সরকার ওই অঞ্চলে আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে
পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
একাধিক ছবিতে দেখা গেছে নারী ও শিশুরা ইথিওপিয়া সীমান্তের বনে কিংবা সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।
যেকোনো সময় সংঘাতের শঙ্কায় তাদের দিন পার করতে হচ্ছে। শরণার্থীদের ত্রাণ কিংবা মানবিক
সহায়তা দেওয়ার সম্পূর্ণ সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছে ইথিওপিয়ার সরকার। তবু তারা শরণার্থীদের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী এজেন্সি ইউএনএইচসিআর
সম্প্রতি জানিয়েছে, সুদানে শরণার্থী সংকট এবং চলমান গৃহযুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
কাজ চ্যালেঞ্জিং।
ইথিওপিয়া দেশটির
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশ প্যাট্রল বাড়িয়েছে। দেশটির আওলালা অঞ্চলে
১ হাজার শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তারা দুটো ক্যাম্প তৈরি করেছে। সুদানে চলমান
গৃহযুদ্ধ বিশ্বের সর্ববৃহৎ উচ্ছেদ সংকট সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি মানুষ
বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ ইথিওপিয়া সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
ক্যাম্পের বাইরে যারা আশ্রয় নিচ্ছেন তাদের প্রায়ই পুলিশি কিংবা সামরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন শরণার্থী। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, ‘আমাদের প্রায়ই উপত্যকায় পানি আনতে যেতে হয়। অধিকাংশ সময় আমাদের পুলিশি নির্যাতন সইতে হয় কিংবা ডাকাতরা আমাদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়।’ ইতোমধ্যে কুমার ক্যাম্পে কলেরা মহামারি আকার ধারণ করেছে। ফলে জাতিসংঘের জন্যও সুদান একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স