প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১০:২৭ এএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১১:২২ এএম
শি জিনপিং ও জো বাইডেন
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো স্নায়ুযুদ্ধে জড়াবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
বিবিসি সোমবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা জি২০-এর শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের বৈঠক হয়। আর এ বৈঠক চলে তিন ঘণ্টা। তাদের বৈঠকে প্রধান মনোযোগ ছিল তাইওয়ান ইস্যু।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা চীন তাইওয়ানে আক্রমণ চালাতে পারে বলে শঙ্কার কথা উল্লেখ করছিলেন। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না চীন তাইওয়ান আক্রমণ করবে।
তাইওয়ান ছাড়াও ওই বৈঠকে দুই নেতা উত্তর কোরিয়া ও ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ নিয়েও আলোচনা করেন।
উভয় নেতাই ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেন। তবে শি এও বলেন যে, ‘এই জটিল সমস্যার কোনো সহজ সমাধান নেই।’
ওই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেন, ‘আমার পক্ষে এটা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল যে চীন উত্তর কোরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ তবে তিনি শিকে এও বলেন, পিয়ংইয়ংকে আরেকটি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে বিরত রাখতে চীনেরও দায়বদ্ধতা আছে।
অন্যদিকে, স্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ শীতল হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানকে মিত্র হিসেবে গণ্য করা এবং তাদের সামরিক সহযোগিতা প্রদান উভয় দেশের সম্পর্ক তলানিতে নিয়ে যায়।
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করলে উত্তেজনার পারদ চরমে উঠে যায়। চীন দ্বীপের চারপাশে বৃহৎ আকারের সামরিক মহড়া পরিচালনা করে এর প্রতিক্রিয়া জানায়। যার কারণে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
সোমবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাইওয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের প্রথম রেড লাইন এটি; যা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বাইডেনের কাছে জানতে চান, চীন তাইওয়ান আক্রমণ করবে কি না বা উভয় দেশের মধ্যে নতুন কোনো স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হচ্ছে কি না।
তখন বাইডেন নতুন কোনো স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেন এবং বলেন, ‘আমি মনে করি না চীন তাইওয়ানে আগ্রাসনের কোনো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
তবে তিনি শিকে এটাও পরিষ্কার করে বলেন যে, তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ বিষয়ে তারা আগের অবস্থানেই আছে।
এ সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনও শিগগিরই চীন সফর করবেন বলেও জানান বাইডেন।
তিনি তিব্বত, হংকং এবং জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের সঙ্গে করা আচরণ ও চীনে মানবাধিকার সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাইওয়ানের বিষয়েও চীনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।
শি জিনপিং বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে কাজ করতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘গোটা বিশ্ব প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ সম্পর্ক যথাযথভাবে রক্ষা করবে। আমাদের এ বৈঠক বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশ্বশান্তির জন্য আমাদের সব দেশের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হবে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বলছে, তারা প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকলেও তা সংঘাতে পরিণত হতে দিতে চায় না।