প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ১৭:২৮ পিএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৪ ১৭:৩৭ পিএম
বেলুন ভর্তি করে পাঠানো ময়লা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন
উত্তর কোরিয়া শনিবার (১ জুন) সন্ধ্যায় আরও ৬০০ ময়লাবাহী বেলুন পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সিউলের অফিশিয়াল সূত্র অনুসারে, উত্তর কোরিয়া থেকে পাঠানো ময়লাবাহী বেলুনে সিগারেটের বাট, উচ্ছিষ্ট কাগজ এবং ময়লা কাপড়ের টুকরো পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চিফ অব স্টাফ জানিয়েছেন, ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বস্তু অবশ্য বেলুনে পাওয়া যায়নি’। এর আগে উত্তর কোরিয়া থেকে ১৫০ ময়লাবাহী বেলুন সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণে পৌঁছায়। সেবার বেলুনভর্তি ব্যবহৃত টয়লেট পেপার পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের তরফে কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে, বেলুনের ভেতর একস্তুপ কাগজ বের করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তার উচ্ছিষ্ট কাগজ এগুলো। অন্য একটি ছবিতে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আবর্জনার স্তুপ পর্যবেক্ষণ করছেন। আরেকটি ছবিতে সিগারেটের পোড়া বাটের ছবি দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দেয়া ছবি অনুসারে, ময়লাগুলো গ্যাসভর্তি বেলুনে ভরে পাঠানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, দেশটির সামরিক, নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং জাতিসংঘের কমান্ড দ্রুততম সময়ে বেলুনগুলো একত্রিত করার কাজে নিযুক্ত রয়েছে। উত্তর থেকে আসা বেলুনগুলো প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিওলে পাওয়া যায়। সিওলের পাশাপাশি দেশটির জিওংজি ও চুংচেওং প্রদেশেও এসব বেলুন দেখা গেছে। কিছু কিছু বেলুন বাতাসের তোড়ে ভেসে সিওলের ৩০০ কিলোমিটার দূরে জিওংসাং প্রদেশেও পৌঁছে গেছে।
১৯৫৩ সালে কোরিয়ান যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নাজুক হয়ে পড়ে। দুই দেশের মধ্যে এখনও অনেকটা উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং রেক্লুসিভ রেজিমের সিনিয়র অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজে তিনি বেলুন হামলার বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘এগুলো উত্তর কোরিয়ার তরফে আন্তরিক উপহার হিসেবেই গ্রহণ করুন’। ভবিষ্যতে তারা আরও বেলুন পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর কোরিয়াবিরোধী লিফলেট বিতরণের প্রতিবাদ হিসেবেই তারা এমনটি করেছেন বলে জানা গেছে।
গোটা বিশ্বের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কোনো সংযোগ নেই বললেই চলে। বহিরাগত যেকোনো কিছুর ওপর তাদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিদেশি কোনো মুভি না বই নিয়ে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নেই। বিদেশি কোনো কিছু নিয়ে ধরা পড়লে বরং শাস্তির বিধান রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক একটি বিরল ফুটেজ প্রকাশ করেন। ফুটেজে দেখা গেছে, কে-ড্রামা দেখার অপরাধে এক কিশোরকে কারাগারে পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, কারাগারে কিশোরকে কঠোর শ্রমে নিযুক্ত করা হয়।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের ফলে অবশ্য বৈদেশিক নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে। এখন সীমিত পরিসরে দেশটিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। ২০১৭-১৮ সালে দুই দেশের মধ্যকার কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নাজুক হতে শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া নতুন করে আবারও কড়াকড়ি আরোপ করছে।
সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন