প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১১:৪৭ এএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৪ ১২:৫৬ পিএম
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তোলা। ছবি : সংগৃহীত
বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। কেননা তারা এর মানবাধিকার নীতি আর মানছে না। শুক্রবার (৩১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দিয়েছে।
ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্থিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা গাজায় চলমান ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। মে মাসের শুরু থেকে তারা ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কিছু অংশ দখল করে এ প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউঘেন্ট নামে পরিচিত ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তদন্তে উঠে এসেছে, ইসরায়েলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসরায়েলের সরকার, সামরিক বাহিনী বা নিরাপত্তা পরিষেবাগুলোর যে সম্পর্ক রয়েছে তা উদ্বেগজনক।
এ তদন্তে সাম্প্রতিক বিশ্ব আদালতের এক রায়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
ইউঘেন্ট দুই সপ্তাহ আগে তিনটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ইসরায়েলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে ১৮ টি প্রকল্পে অংশীদারত্ব রয়েছে ইউঘেন্টের।
বিশ্ববিদ্যালয়টি ছয়টি অ-প্রাতিষ্ঠানিক ইসরায়েলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর গবেষণা প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাবে। কেননা তাদের সঙ্গে মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘনের কোনো সংযুক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারীরা ছয়টি অ-প্রাতিষ্ঠানিক ইসরায়েলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এও বলেছেন যে তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
গত সপ্তাহের শুরুর দিকে বেলজিয়ামের আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে।
অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের চলমান প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যে নতুন প্রকল্পগুলো শুরু করার কথা ছিল সেগুলোকে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
দ্য ইউনিভার্সিটি লিব্রে ডি ব্রুকসেলস ঘোষণা দিয়েছে, এটি তার ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে আর কোনো প্রকল্প শুরু করবে না। একই নীতি প্রযোজ্য হবে তার ফিলিস্তিনি অংশীদারদের ক্ষেত্রেও। যতক্ষণ না তারা জিম্মিদের মুক্তি দিচ্ছে ততক্ষণ অবধি তাদের সঙ্গেও আর কোনো প্রকল্প শুরু করবে না বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৯৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৮১ হাজার ১৩৬ জন।
সূত্র : রয়টার্স