সোহাগ বিশ্বাস
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২২ ১৬:৩৭ পিএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২ ১৬:৪৩ পিএম
ঘুরতে পছন্দ করে না এমন মানুষ পৃৃথিবীতে পাওয়া দুর্লভ। ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন বাহনে ভ্রমন করে থাকেন। অনেকেই গাড়িতে করে কিছুটা আরামে ঘুরতে পছন্দ করেন আবার অনেকেই ঘোরাঘুরির মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার খুঁজে পেতে পছন্দ করেন।
অ্যাডভেঞ্চারের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে প্রচলিত দুটি শব্দ ট্রেকিং ও হাইকিং। যেখানে কোন যানবাহন চলেনা সেসব যায়গায় দীর্ঘপথ পায়ে হাঁটাকেই ট্রেকিং বলে। যিনি ট্রেকিং করেন তাকে বলা হয় ট্রেকার। হাইকিং ও ট্রেকিং এর মতো! ভিন্নতা হচ্ছে ট্রেকিং সমতলে আর হাইকিং পাহাড়-পর্বতে করা হয়!
ট্রেকিং বা হাইকিং এর জন্য বেশ কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে! প্রথমেই আসি শারীরিক প্রস্তুতির কথায়। ট্রেকিং বা হাইকিং এর জন্য অবশ্যই শারীরিকভাবে ফিট হতে হবে! শারীরিকভাবে ফিট না হলে ট্রেকিংটা উপভোগ করা যাবেনা! নিজের শরীরকে ট্রেকিং এর উপযোগী করবার জন্য প্রতিদিন দৌড়, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।
এরপর আসি মানসিক প্রস্তুতির কথায়। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে সবসময় মনে হয় অ্যাডভেঞ্চার এক্টিভিটিতে শারিরীক প্রস্তুতির থেকে মানসিক প্রস্তুতি অনেক বেশি প্রয়োজন! বিশেষ করে পাহাড়ে ট্রেক করবার সময় হয়তো শারিরীক শক্তি একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে তখন চালিত করবে মানসিক শক্তি।
এ ছাড়া ট্রেকিং এর সময় অনেক বিপদ আসতে পারে। দলের কেউ অসুস্থ হতে পারে, আবহাওয়া খারাপ হতে পারে, পথ ভুল হতে পারে। তাই ট্রেকিং এর সময় যেকোন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। এর জন্য বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার সম্পর্কিত বই পড়া, সিনেমা দেখা যেতে পারে।
এরপর আসি ট্রেকিং এর সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে। ট্রেকিং এর সময় অবশ্যই একটি ভাল মানের প্রফেশনাল ব্যাকপ্যাক থাকা জরুরি। এরপর প্রয়োজন ভাল মানের ট্রেকিং জুতা। জুতা হালকা এবং ওয়াটার প্রুফ হলে ভালো হয়। ট্রেকিং এর সময় অবশ্যই আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। যেসব ট্রেকিং রুটে লোকালয় নেই সেসব যায়গায় টেকিং করতে হলে অবশ্যই তাবু সঙ্গে নিতে হবে।
এ ছাড়া অপরিচিত রুটে ট্রেকিং এর জন্য সাথে ম্যাপ নিতে হবে। পূর্বেই ট্রেকিং পরিকল্পনা করে ম্যাপ স্টাডি করা জরুরি। বর্তমানে গুগল ম্যাপের কারনে ম্যাপ ব্যবহার করা অনেক সহজ। যে রুটে ট্রেকিং করতে চান সে রুটের ম্যাপ অফলাইনে ডাউনলোড করে নেয়া যেতে পারে।পাহাড়ে ট্রেকিং এর সময় ট্রেকিং পোল ব্যবহার করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। ট্রেকিং এর সময় কিছু সময় পরপর পানি খেতে হবে।
এ ছাড়া শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওডোমস ক্রিম, সান ব্লক, চাকু, সানগ্লাস, ক্যাপ, কম্পাস, টর্চ লাইট, ম্যাচ বা অন্যান্য আগুন জ্বালানোর উৎস, বাঁশি, জিপিএস, নাইলনের দড়ি, বড় প্লাস্টিক ব্যাগ, পরিচয় পত্র, টয়লেট টিস্যু, ইমার্জেন্সি রেশন ইত্যাদি সঙ্গে রাখা যেতে পারে । ট্রেকিং এর প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের জন্য ঢাকায় বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে পিক ৬৯, ট্রিপমেট, ডেকাথলন, অ্যাডভেঞ্চার শপ অন্যতম।
বাংলাদেশের অধিকাংশ জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলো বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্রগ্রামে অবস্থিত। এছাড়া ভারত এবং নেপালে অনেক জনপ্রিয় হাইকিং রুট রয়েছে। প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে উপভোগের জন্য ট্রেকিং এর কোন বিকল্প নেই। আপনার পছন্দমতো ট্রেকিং রুট নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। ট্রেকিং এর সময় অবশ্যই কোন ধরনের ময়লা-আবর্জনা প্রকৃতিতে ফেলা উচিত নয় । বন্য প্রাণীরা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত ।
প্রবা/জিকে