× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অযত্ন-অবহেলায় টাঙ্গাইলের সম্ভাবনাময় সাগরদিঘি

খাদেমুল ইসলাম মামুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০১ পিএম

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৬ পিএম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কালের সাক্ষী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাগরদিঘি। এর অবস্থান উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিমি পূর্বদিকে। আগে এলাকাটির নাম ছিল লোহানী। পাল বংশের কীর্তিমান পুরুষ সাগর রাজা দিঘিটি খনন করেন। তার নামের সঙ্গে মিল রেখে দিঘির নামকরণ হয় সাগরদিঘি। সেই থেকে পাহাড়ি এই জনপদটি সাগরদিঘি নামে পরিচিতি পায়। সময়ের বিবর্তনে দিঘির সৌন্দর্য আজ ধ্বংসের পথে।

দিঘিটি এ অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান। প্রতিবছর বারুণী স্নানোৎসবে হাজারো ভক্তের আগমন ঘটে এই দিঘি ঘিরে। ৩৬ একর আয়তনের দিঘিটি কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে এর পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে বেশকিছু স্থাপনা। একসময় দিঘির যৌবনের আলোকচ্ছটায় মুগ্ধ হতো শত শত প্রকৃতিপ্রেমী। সবুজের সমারোহে ভরপুর ছিল দিঘির পাড়। সবুজ পত্রপল্লবের নান্দনিক পরিবেশ বিষণ্ন মনে দোলা দিয়ে যেত। স্বচ্ছ পানির ঢেউ আছড়ে পড়ত পাড়ে। গ্রীষ্মের খাঁখাঁ রৌদ্দুরে অচেনা পথিকের গোসল ও পিপাসা দুই-ই মেটাত এর জল। কিন্তু আজ অবৈধ দখল, মাছ চাষ, পানিতে পোল্ট্রি বর্জ্য ও দিঘির পাড়ে বসানো মুরগির হাটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংস্কারের অভাব ও অযত্ন-অবহেলা। ফলে দিন দিন দিঘিটি তার জৌলুশ হারাচ্ছে।


জানা যায়, পালবংশীয় আমলে এ অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল। তৎকালীন পালরাজা সাগর পাল পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেন। এ কারণে দিঘি খননের পরিকল্পনা করেন। দুই হাজার শ্রমিকের প্রচেষ্টায় খনন করা হয় সাগরদিঘি।

কালের বিবর্তনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে লোহানী সাগরদিঘি বাজার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দিঘির উত্তর পাশে অবস্থিত সাগরদিঘি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কালীমন্দির, দক্ষিণে সাগরদিঘি দাখিল মাদ্রাসা ও গজনবী ঈদগাহ মাঠ, পূর্বপাশে সাগরদিঘি পুলিশ তদন্তকেন্দ্র এবং পশ্চিমে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লোহানী সাগরদিঘি বাজার।


 সাগরদিঘি থেকে সামান্য পূর্বে এর চেয়েও প্রকাণ্ড আরেকটি দিঘি আছে, যার আয়তন ৪০ একর। এর নাম বন্যাদিঘি। সাগর রাজার পুত্র বনরাজ পাল দিঘিটি খনন করেছিলেন।


স্থানীয় প্রভাবশালীরা সরকারের কাছ থেকে দিঘিটি লিজ নিয়ে প্রতিবছর মাছ চাষ করে আসছে। যার ফলে মাছের খাদ্য, পোল্ট্রির বর্জ্যসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। যার প্রভাবে দিঘির প্রাণ ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। ভরে যাচ্ছে তলদেশ। 


সাগরদিঘি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সাগরদিঘি পাহাড়ি এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘি। একে কেন্দ্র করে এখানে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠে। ঐতিহ্যবাহী দিঘিটি রক্ষায় সকলের এগিয়ে আসা উচিত। পাশাপাশি সরকারের উচিত দিঘিটি সংস্কার করে এর ঐতিহ্য ধরে রাখা।’


দিঘির পাড়ে অবস্থিত কালীমন্দিরে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুণ্যার্থী বলেন, এই দিঘি আমাদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান। পানি নষ্ট থাকায় বারুণী স্নানে অনেক সমস্যা হয়। দিঘিটি ইজারা না দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।


এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু সাঈদ বলেন, সাগরদিঘি নিঃসন্দেহে একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্রের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দিঘির পশ্চিম পাড়ে একটি রেস্ট হাউস এবং একটি বিনোদন কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগির ঐতিহ্যবাহী এই দিঘিটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা