× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কক্সবাজার জেলার সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব

ড. এম. এ. সোবহান

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৪ পিএম

ড. এম. এ. সোবহান

ড. এম. এ. সোবহান

গত ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট বাস স্টেশন থেকে বাসে সকাল সোয়া ৭টায় কক্সবাজার জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। পাঠককে বলে রাখি- কক্সবাজারে এটি আমার প্রথম যাত্রা। পরিবার নিয়েই যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো; কিন্তু মেয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, সেই সঙ্গে তার মায়েরও সঙ্গে  থাকা আর বিগত কয়েক বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং কোচিং এর চাপে কোথাও পরিবারসহ যাওয়া হয়নি। যে কারণে সিদ্ধান্ত নিলাম একাই যাব। যাত্রাপথে অচেনা পরিবেশ, বাড়িঘর, বৃক্ষরাজি, পাহাড়, নদী, ব্রিজ ও নানা ধরণের যানবাহন দেখতে দেখতে যাচ্ছিলাম। সকাল অনুমানিক ৯টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রবেশ করি। চকরিয়া আমাকে খুব আকর্ষণ করেছে। 

চকরিয়ার পাহাড়, বন, ডুলহাজারা সাফারি পার্ক, রাস্তার দুপাশের প্রাকৃতিক বন-বনানী ও নাম নাজানা লতাপাতা যেন এক অভাবনীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। যাহোক ১১টা ৪০ মিনিটে বাসে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইন্সের গেটে পৌঁছালাম বাস থেকে নেমে লাবনী পয়েন্ট সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স মেসের ৫০২ নম্বর রুমে উঠলাম। জাতিসংঘে চাকরি, পিইচডি প্রোগাম ও প্রশিক্ষণের সুবাদে বিশ্বের বেশ কিছু দেশের সমুদ্র ও সমুদ্র ক্সসকত দেখার সুযোগ হয়েছে। দক্ষিণ চায়না সাগর, মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় ভূ-মধ্যসাগরীয় সমুদ্র সৈকত, মালয়েশিয়ায় লাংকাউই, পেনাং, তেরাংগানু এবং পাহাং স্টেটের অনেক সমুদ্ সৈকতে গিয়েছি। কিন্তু কক্সবাজারের মতো এতো লম্বা সমুদ্র সৈকত আর কোথাও দেখেনি। যাহোক, কক্সবাজার জেলায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে ওই জেলার সৌন্দর্য্য, পরিবেশ, প্রকৃতির উপর একটু আলোকপাত করছি- 

ডুলহাজারা সাফারি পার্ক : ডুলহাজারা সাফারি পার্ক দেশের সর্বপ্রথম সাফারি পার্ক। এটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থিত। এর আয়তন ৯ বর্গ কিলোমিটার। এ সাফারি পার্ক চকরিয়া উপজেলায় অর্ন্তগত এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ পার্কে কমপক্ষে ১৬৫ প্রজাতির ৪০০০ প্রাণি রয়েছে। এসব প্রাণির মধ্যে ডোরাকাটা হরিণ, সাম্বা হরিণ, সাধু পানি ও মিষ্টি পানির কুমির, ভল্লুক, বানর, ময়ূর, বন্য হাতি, বাঘ, সিংহ, বিভিন্ন প্রকারের পাখি, সাপ ইত্যাদি রয়েছে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাসে এখানে প্রচুর দর্শনার্থী ও পর্যটক ভ্রমণে আসে। উল্লেখ্য, এ সাফারি পার্কে পাশ্ববর্তী এলাকা থেকেও অনেক প্রাণি ও পাখি এসে থাকে। প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণিদের পদচারণায় পার্কটির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ছে।

নীল আকাশ ও নীল সমুদ্র : কক্সবাজারের সমুদ্রের উপর নীল আকাশ যেন সমুদ্রের জলরাশির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। সমুদ্র সৈকতে নীল আকাশ ও সমুদ্রের নীল জলরাশি ভ্রমণ পিপাসু ও পথিককে অনাবিল প্রশান্তি দিয়ে থাকে। মনে হয় যেন সমুদ্র ও আকাশের সে মিলনমেলায় নিজেকেও সোপর্দ করি।

পৃথিবীর বৃহত্তম ও লোকে লোকারণ্য সৈকত : পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত রয়েছে কক্সবাজার জেলায়। এ জেলার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট, লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কবিতা পয়েন্টে প্রকৃতপক্ষে জনসমাগম একটু বেশি মনে হয়েছে। এর একটা ভালো দিক হলো মানুষ সমুদ্র ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাচ্ছে; ফলে তারা দৈনন্দিন ও নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করে নিজেদের আবার সুস্থ, সতেজ এবং নতুন করে কাজ করার প্রেরণা ও প্রেষণা পাচ্ছে। আমার একজন সহকর্মী তো বলেই বসলো কিছুদিন পূর্বে এক ইউরোপীয় ভ্রমণকারী সৈকতে এতো লোক দেখে বলেন, ‘পানির থেকে এখানে মানুষের মাথা বেশি’। তবে ইনানী ও হিমছড়ির দিকের সৈকতে অপেক্ষাকৃত কম লোকের উপস্থিতি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, অনেক পর্যটকই হিমছড়ি ও ইনানী সৈকত সম্পর্কে কম জানে। আর ওই সৈকত একটু দূরে বিধায় তাদের যাতায়াতের জন্য সহজলভ্য মিনিবাস বা কোস্টার সার্ভিসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

মেরিন ড্রাইভ রোড ও তার চারপাশের সৌন্দর্য্য : কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডটি বিশ্বের সব থেকে দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ রোড। যা সমুদ্রের কোল ঘেষে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত চলে গেছে। এ রোডটি ৮০ কি.মি. দীর্ঘ। এর এক পাশে বঙ্গোপসাগর এবং অপরপাশে পাহাড় ও পাহাড়ি বনভূমি। এ রোডের পাশে ইনানী, হিমছড়িসহ অনেক ছোট-বড় সমুদ্র সৈকত রয়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এবং জলরাশি প্রকৃতি প্রেমিক ও পর্যটকদের অপার আনন্দ উপহার দিয়ে থাকে। গর্জন বৃক্ষ, নাম না জানা বৃক্ষ এবং লতাপাতা মিলে এখানে এক সহজাত ও অকৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করেছে।

গর্জন বৃক্ষ এবং অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণি : মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশের পাহাড় সারি ও সমুদ্র ওই এলাকাকে এক অনিন্দ সুন্দর রূপ দিয়েছে। পাহাড়ে অনেক গর্জন বৃক্ষ দেখেছি, কিন্তু তেমন পশুপাখি দেখতে পায়নি। মাঝে মাঝে দু-একটি কাক ও বক পাখি দেখা গেছে। বানর, হরিণ, বনমোরগ দেখিনি। একজন প্রকৃতি প্রেমিক একদা বলছিলেন- গর্জন বৃক্ষ যে পাহাড়ে থাকে সে পাহাড়ে শুকনো মৌসুমে পানির অভাব হয় না। কেননা তারা বর্ষায় পানি ধরে রাখে এবং শুকনো মৌসুমে অল্প অল্প করে সেই জমা করা পানি ছেড়ে দেয়। যার ফলে ওই পাহাড়ে অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণি সহজে বেঁচে থাকতে পারে।

ঝাউবন ও প্রকৃতি : কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে একটু পর পর ছোট-বড় ঝাউবনের উপস্থিতি, সমুদ্র, পাহাড় ও বৃক্ষরাজি প্রকৃতির এক অপরূপ শোভাকে যেন জানান দেয়। ঝাউবন মনকে আবেগায়িত করে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যায়, ব্যক্তিকে কাব্যচর্চা তথা সাহিত্য কর্মে প্রেরণা জোগায়।

বাহারি রঙের নৌকা : হিমছড়ি ও ইনানী সৈকতের পাশে অনেক বাহারি রঙের নৌকা দেখলাম। নৌকাগুলো আবার বাঁকানো ধরনের। এগুলোতে আবার বিভিন্ন রঙের পতাকা থাকে। ওই পতাকাগুলো গভীর সমুদ্রে ঢেউয়ে ঢাকা পড়ার সময় নৌকার অস্তিত্বকে জানান দেয়। নৌকাগুলোর বৈচিত্র্যময়তা আমাদের দেশের মাঝিমাল্লাদের সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্য্য প্রিয়তার পরিচয় বহন করে।

রক্তিম সূর্যাস্থ : সূর্যাস্থের সময় সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র, আকাশ ও প্রকৃতি সবকিছুই এক রক্তিম রঙ অবগাহন করে। আবার সূর্য্যকে সাগরের পানিতে ডুবে যেতে ও প্রকৃতিতে সূর্যের লাল আভা দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে দেখেছি। এমনকি পানির উপরেও সূর্যের লালিমার উপস্থিতি দেখা যায়।

ঝিনুক মার্কেট ও বার্মিজ মার্কেট : ক) ঝিনুক মার্কেট: আমার কাছে ঝিনুক মার্কেটটা অনেক ভালো লেগেছে। এ যেন বিভিন্ন রকমের ঝিনুক, শামুক, শঙ্খ ইত্যাদির বিশাল সমারোহ। তবে দামও একটু বেশি বেশিই মনে হয়েছে। যাহোক ঝিনুক ও শামুক যে এতো প্রজাতির হতে পারে তা ওই মার্কেটে না গেলে জানতে পারতাম না। ওই মার্কেটে মুক্তারমালা, ঝিনুক ও শামুকের তৈরি মালা, মেয়েদের চুলের ব্যান্ড, কানের দুল, ঘরের শোপিস ও বিভিন্ন প্রকার আচার পাওয়া যায়। এর মধ্যে কোনো কোনো শামুক, শঙ্খ, ঝিনুক গভীর সমুদ্রের। আবার কোনটি সমুদ্রতীরবর্তী এলাকার মর্মে একজন ভূতত্ববিদ বন্ধু একবার বলেছিলেন। আরও জানা যায়, আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের জায়গায় একসময় গভীর সমুদ্র ছিলো, সেজন্য এখানে গভীর সমুদ্রের ঝিনুক, প্রবাল ও অন্যান্য মূল্যবান বস্তু পাওয়া যায়।

খ) বার্মিজ মার্কেট : কক্সবাজারের বার্মিজ মার্কেটও অনেক সুন্দর। তবে এ মার্কেটে এখন কাঠের তৈরি দোকানের পরিবর্তে ইট ও কংক্রিটের দোকান হচ্ছে, যার ফলে মার্কেটটি তার পুরাতন ঐতিহ্য হারাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ঠদের অভিমত। এ মার্টেটে রাখাইনদের তৈরি কাপড়, নানা রকম আচার, মেয়েদের রূপচর্চার মৃত্তিকা, মুক্তার মালা এবং শামুক ও ঝিনুকের তৈরি মালা, কানের দুল ও ব্যান্ড পাওয়া যায়।

মাথিনের কূপ : ঐতিহাসিক মাথিনের কূপের অবস্থান কক্সবাজারের টেকনাফ থানা কম্পউন্ডের ভেতরে। এ কূপটি ঘিরে পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্জ ও তৎকালীন জমিদার ওয়ানথিন প্রু চৌধুরীর মেয়ে মাথিনের এক অমর প্রেম কাহিনী রয়েছে। জানা যায়, প্রতিদিন থানার বারান্দায় বসে ধীরাজ ভট্টাচার্জ রাখাইন তরুণীদের থানা কম্পাউন্ডের কুয়া থেকে পানি নেওয়া অবলকন করতেন। একদা তার নজরে আসে মাথিন নামের এক সুন্দরি তরুলীর। যার নাক ও মুখ ছিলো কিছুটা ভিন্ন। ধীরাজ থানার বারান্দায় চেয়ারে বসে মাথিনের গমনাগমন অবলোকন করতেন। মাথিন অন্য তরুলীদের থেকে একটু আগে পানি নিতে আসতেন। এভাবে ধীরাজ ও মাথিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের সম্পর্ক যখন বিয়ের দিকে গড়ায় তখন ধীরাজ ভট্টাচার্জ হঠাৎ তার বাবার চিঠি পেয়ে কলকাতায় ছুটিতে যেতে চান। ছুটিতে যাওয়ার আগে ধীরাজ অবশ্য মাথিনকে তার কলকাতায় যাওয়ার কথা জানান। কিন্তু মাথিন তাকে যেতে দিতে রাজি হননি। অবশেষে ধীরাজ কলকাতায় চলে যান। মাথিন ধীরাজের এ চলে যাওয়াকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাই সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন এবং অবশেষে মারা যান। যাহোক কূপটির চারিদিকটা খুব মজবুত এবং পাকা করে বাঁধানো। সেখানে ধীরাজ ভট্টাচার্জের একটি প্রতিকৃতিও রয়েছে। কিন্তু জায়গাটি আরও সুন্দর, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নানা রকম ফুলের বাগান করা যায় মর্মে একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।

নাফ নদী ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ : ক) নাফ নদী : নাফ নদী বাংলাদেশেকে মায়ানমার বিশেষ করে আরাকান রাজ্য থেকে আলাদা করেছে। এ নদীর রাখাইন অংশে রয়েছে অনেক পাহাড় ও পাহাড়ি বন। বাংলাদেশ অংশটাও সবুজ এবং অনেক সুন্দর লেগেছে। নৌকা, পাহাড়, পাহাড়ি বন ও নাফ নদী ওই এলাকাকে সবুজ, শ্যামল ও ভিন্নতা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নাফ নদীর উপর একটি জেটি তৈরি করেছে, আর তাই আমরা মাঝ নদী পর্যন্ত রাস্তা ধরে জেটিতে পৌঁছায়। সেখান থেকে আবার নৌকায় গরীব মানুষকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে এবং কয়েকজনকে জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেখেছি। সেখানকার এক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানলাম এখন পূর্বের মতো আর নদীতে মাছ পাওয়া যায় না।

খ) সেন্টমার্টিন দ্বীপ : সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। এটা বাংলাদেশের দক্ষিণে ও বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। এর স্বচ্ছ পানি, সামুদ্রিক কচ্ছপ, লাল কাঁকড়া ও সারি সারি নারিকেল গাছ পর্যটকদের আকর্ষণের বিষয়বস্তু। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সঙ্গে দ্বীপটি ও দ্বীপের পার্শ্ববর্তী এলাকার জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সেন্টমার্টিনের সঙ্গে লাগোয়া আর একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ হলো ছেড়া দ্বীপ। এটি জোয়ারের পানিতে জলসংগ্ন হয়ে যায়। আবার ভাটার সময় জেগে ওঠে। এ দ্বীপে পাথর, বালু, ঝাউগাছ এবং জীবিত ও মৃত প্রবাল রয়েছে। তাছাড়া দ্বীপটি থেকে নীল সমুদ্র দেখা যায়।

শাহপরীর দ্বীপ : টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপটিও ঘুরে দেখলাম। এ দ্বীপে এক সময় এক পরী বাস করত বলে জানা যায়। তবে একটি সূত্র থেকে জানা যায় সেখানকার মানুষ সাধারণত সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। আর যখন সমুদ্রে কোনো মাছ ধরতে পারে না, তখন তারা ডাকাতি, চুরি, মানুষ অপহরণ ও তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। তাদের মূলত কোনো কৃষি জমি নেই, সেজন্য তাদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করলে ওই এলাকায় মানুষ উপকৃত হতো। 

মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপ : ক) মহেশখালী দ্বীপ : মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। এ দ্বীপে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। দ্বীপের সবুজ পহাড়, ঘন অরণ্য, নির্মল সৈকত, সোনাদিয়া দ্বীপ, আদিনাথ মন্দির, রাখাইন পাড়া ও গোল্ডেন টেম্পল ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণের অন্যতম উপাদান। মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর মহেশখালীর অদূরে নির্মিত হচ্ছে। মহেষখালী লবণ চাষ ও চিংড়ি চাষের জন্যও বিখ্যাত।

খ) কুতুবদিয়া দ্বীপ : সমুদ্রের মাঝে কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায় একটি দ্বীপ উপজেলা। এ দ্বীপটি কুতুবদিয়া চ্যানেল দ্বারা কক্সবাজার জেলার মূল ভূখন্ড থেকে পৃথক হয়েছে। এখানে লম্বা সমুদ্র সৈকত, ঐতিহাসিক বাতিঘর ও দেশের বৃহৎ বায়ু চালিত বিদ্যুৎ প্লান্ট রয়েছে। এ দ্বীপের মানুষের প্রধান জীবিকা ও আয়ের মাধ্যম হলো- লবণ চাষ, মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও মৃত্তিকার ক্ষয় এ দ্বীপটির প্রধান সমস্যা।

লবণ চাষ : কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ ও মহেষখালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণ চাষ হয়ে থাকে। যা সংশ্লিষ্ঠ এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকার সংস্থান করে থাকে। এ লবণ চাষ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। কেউ কেউ বলেন, লবণ চাষিরা তাদের পরিশ্রমের তুলনায় সঠিক মূল্য পায়না। আর আমাদের এতো পরিশ্রমের উৎপাদিত লবণ নষ্ট ও অবহেলা না করে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত মর্মে একজন বিদগ্ধজন বলেছেন।

বিভিন্ন স্পটে শুটকি মাছ উৎপাদন ও তার গুরুত্ব : শুটকি মাছ নিঃসন্দেহে জীবন্ত মাছের থেকে অনেক বেশি পুষ্ঠিগুণ সমৃদ্ধ। দেশের মাছের চাহিদার একটা অংশ শুটকি মাছ দ্বারা পূরণ হয়ে থাকে। কিন্তু কক্সবাজার শহর, শহরতলী, সৈকতের পাশে এবং বলতে গেলে যত্রতত্র শুটকি মাছ শুকানো হয়। শুটকি মাছের গন্ধ, মাছে ব্যবহৃত লবণ, মেডিসিন ও মাছের উচ্ছিষ্ট অংশ পরিবেশ দুষণ করে থাকে বলে সূত্র মতে জানা যায়। এখানে মাছ শুকানো বা শুটকি মাছ ব্যবস্থাপনা একটা নিদিষ্ট এলাকায় করা যেতে পারে।

রাস্তার ওপর হরেক রকমের দোকান : কক্সবাজার শহর থেকে সৈকতে যাওয়ার পথে বিকাল থেকে শুরু হয় হরেক রকমের অস্থায়ী ছোট ছোট দোকান। এসব দোকানের পসরা নি:সন্দেহে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। তবে এগুলো কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আবার মানুষের চলাচলের ব্যাঘাত এবং যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাসহ কিছুটা গণ উপদ্রুবের সৃষ্ঠি করেছে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, শহরে ও তার আশপাশে বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ রয়েছে। আমাদের অভ্যাসটা একটু পরিবর্তন করলে পরিবেশের জন্য উপকৃত হতো। অবশ্য সকালে পথশিশুদের প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করতে দেখেছি। আমরা পরিকল্পিতভাবে ও ইচ্ছাশক্তির জোরে পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পারি ও রিসাইক্লিং করতে পারি।

উপসংহার : কক্সবাজার প্রকৃতির এক অপরূপ দান। এখানে কাজ করার বিশাল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। তাই প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও সুচারু ব্যবস্থাপনা। তাহলে এ অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা পাবে। বিশেষ করে এ অঞ্চল হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন ও অর্থ উপার্জনের বড় উৎস।

লেখক : ড. এম. এ. সোবহান, পিপিএম কমান্ড্যান্ট

(অ্যাডিশনাল ডিআইজি),পরিবেশ বিজ্ঞানী, পুলিশ

স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল (পিএসটিএস), বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটি



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা