প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৮:৪৬ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৯:২৬ পিএম
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রতিরোধের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক এক্সকে সাড়ে ছয় লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা। ছবি: এপি
অনলাইনে শিশুদের ক্ষতিকর সামগ্রী (কনটেন্ট, বার্তা) মোকাবেলার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য প্রদানে ব্যর্থতায় ইলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক এক্সকে সাড়ে ছয় লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৪৬৩,০৬৩ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।
দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ই-সেফটি কমিশনারের’ আনা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার ফেডারেল আদালতের দেওয়া এ জরিমানার কথা উল্লেখ করা হয়।
এই শাস্তির মাধ্যমে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবদেন অনুসারে, দেশটির ২০২৩ সালে ই-সেফটি কমিশনার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানিটিকে প্রথম নোটিশ দিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক্স (টুইটার) কোম্পানিকে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী সংক্রান্ত মৌলিক অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কমিশনার প্রতিবেদনটিতে কিছু প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে তা চিহ্নিত করেন এবং আরও তথ্য চেয়ে ৬ এপ্রিল এক্স কর্পকে পাল্টা চিঠি লেখেন। এরপর ৫ মে কমিশনারের উল্লেখ করা প্রশ্নের জবাবে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক টুইটার ইনকর্পোরেটেড কিনে নেওয়ার পর পূর্ববর্তী কোম্পানির উত্তরসূরি হিসেবে এই এক্স কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
এক্স কর্প হলো একটি যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি, যা মূলত বিখ্যাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পরিচালনা করে।
এরপর টুইটার সম্পূর্ণভাবে এক্স কর্পোরেশনের সঙ্গে একীভূত হয়ে এর নতুন নাম দেওয়া হয় ‘এক্স’।
কমিশনার এক্স কর্পের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন এই যুক্তিতে যে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ থেকে ৫ মে-এর মধ্যে নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির যথাযথ জবাব না দিয়ে অনলাইন নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করেছে।
প্রাথমিকভাবে আদালতে অভিযোগগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে কোম্পানি দাবি করে যে, যেহেতু একীভূতকরণের পর টুইটার আর একটি কোম্পানি ছিল না, তাই তাদের ওই নোটিশ মেনে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
কিন্তু বিচারপতি মাইকেল হুইলান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে কমিশনারের পক্ষে রায় দিয়ে এক্স কর্পকে নোটিশটি মেনে চলার নির্দেশ দেন।
এক্স কর্প এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টার পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল আদালত সিদ্ধান্তটি বহাল রাখে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোম্পানিটি বৃহস্পতিবার নিয়ম লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করেছে, তবে উল্লেখ করেছে যে একীভূতকরণের কারণে প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের পরিবর্তন চলার সময়েই এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।
এ বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রাপ্য জরিমানা হিসেবে ৬৮৭,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার যথাযথ বলে মনে করছে বিচারক।
তবে এক্স কর্প তার আইনি খরচ বাবদ কমিশনারকে এক লক্ষ অস্ট্রেলিয়া ডলার পরিশোধ করতে সম্মত হয়েছে।
ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেছেন, “প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে অর্থপূর্ণ স্বচ্ছতা অপরিহার্য”।
কমিশনার বৃহস্পতিবারের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার নিয়মকানুন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
এক্স কর্পকে জরিমানা পরিশোধ করার জন্য ৪৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।