প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:৪৫ পিএম
মাত্র ১৫ সেকেন্ডেই হৃদরোগ শনাক্ত করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তিনির্ভর এমন একটি স্টেথোস্কোপ উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাজ্যের গবেষকরা। নতুন এই যন্ত্র দিয়ে একসঙ্গে তিন ধরনের হৃদরোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হৃদরোগ চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
উদ্ভাবনী এ যন্ত্র তৈরি করেছে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার এনএইচএস ট্রাস্টের একটি গবেষণা দল। গবেষকদের ভাষ্য, এই স্টেথোস্কোপ দিয়ে খুব সহজেই হার্ট ফেইলিউর (হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস), হার্ট ভালভের ত্রুটি এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের মতো সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।
গবেষকরা জানান, এই এআই স্টেথোস্কোপের বিশেষত্ব হলো, এটি অতিমৃদু হার্টবিট কিংবা রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে, যা সাধারণ স্টেথোস্কোপ দিয়ে ধরা সম্ভব নয়।
স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বার্ষিক সম্মেলনে হাজারো চিকিৎসকের সামনে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, হৃদরোগ যত দ্রুত ধরা পড়বে, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যাবে এবং প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হবে।
যুক্তরাজ্যের ২০০টি জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) চেম্বারে প্রায় ১২ হাজার রোগীর ওপর এই যন্ত্রটি পরীক্ষা করে দেখা গেছেÑ
• হার্ট ফেইলিউর শনাক্তের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়েছে
• হার্ট ভালভের রোগ শনাক্তের সম্ভাবনা দ্বিগুণ
• এবং অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন শনাক্তের সম্ভাবনা তিনগুণ বেড়েছে
গবেষক ডা. প্যাট্রিক বেশটিগার বলেন, ‘গত ২০০ বছরেও স্টেথোস্কোপের ডিজাইনে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অথচ এখন মাত্র ১৫ সেকেন্ডে এতটা নির্ভুল ফলাফল পাওয়া এক বিশাল অর্জন।’
এই আধুনিক স্টেথোস্কোপটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইকো হেলথ। এটি আকারে একটি তাসের কার্ডের মতো ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এই যন্ত্রটি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নয়; যেসব ব্যক্তি হৃদরোগের উপসর্গে ভুগছেন, তাদের দ্রুত রোগ শনাক্ত করতে এটি কার্যকর।
গবেষক মিহির কেলশিকার বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা (হার্ট ফেইলিউর) তখনই শনাক্ত হয়, যখন তা অনেকটাই জটিল অবস্থায় পৌঁছে যায়। কিন্তু এই প্রযুক্তির সাহায্যে রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই তা ধরা সম্ভব।’
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সোনিয়া বাবু-নারায়ণ বলেন, ‘এই প্রযুক্তি সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়ের সুযোগ করে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে রোগীর জীবনমান উন্নত করতে পারে। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান