প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৩ পিএম
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার অভ্যাস এখনও গড়ে ওঠেনি, অথচ প্রতিদিন অসংখ্য তরুণ ভুগছেন উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মমূল্যবোধহীনতার মতো সমস্যায়। এই সংকটে প্রযুক্তির সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে এসেছে এক অভিনব উদ্যোগ- বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই চ্যাটবট প্লাটফর্ম ‘মনতরঙ্গ’।
২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই অলাভজনক উদ্যোগটি মূলত ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে। এখানে পুরোপুরি বিনামূল্যে, সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটের মাধ্যমে সংবেদনশীল কথোপকথনে অংশ নিতে পারেন, যা তাদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে এবং প্রয়োজনমতো দিকনির্দেশনা দেয়।
স্থানীয় প্রেক্ষাপটে উদ্ভাবনী সেবা
‘মনতরঙ্গ’ শুধুই একটি রোবটিক এআই নয়- এটি এক ধরনের ডিজিটাল ‘মনবন্ধু’। বাংলাভাষায় কথা বলে, স্থানীয় সংস্কৃতি বোঝে এবং তরুণদের সমস্যাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়। এখানে সহানুভূতিশীল কথোপকথনের পাশাপাশি রয়েছে মুড ট্র্যাকার, চিন্তাভাবনা ভিত্তিক জার্নালিং, আবেগ প্রতিফলন, এমনকি ভয়েস কলের মাধ্যমে সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও।
মানসিক স্বাস্থ্য শনাক্ত ও সহায়তা
এই প্লাটফর্মে বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত PHQ-9 এবং GAD-7 স্কেলে মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। কোনো ব্যবহারকারীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে পেশাদার থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে অনুপ্রাণিত করা হয়। একই সঙ্গে অফলাইনে অ্যাক্সেসযোগ্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কিউরেটেড ভিডিও, নিবন্ধ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ টুলসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজের যত্ন নিতে পারেন।
কমিউনিটি ও প্রতিনিধিত্ব
‘মনতরঙ্গ’-এর পেছনে কাজ করছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, নির্ঝর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়া, বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
তারা বিশ্বাস করেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়Ñমানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার প্রকৃত রূপ।
পরামর্শক ও তত্ত্বাবধান
এ উদ্যোগে যুক্ত আছেন প্রায় ১০ জন পেশাদার মনোবিজ্ঞানী এবং ১৫ জন মনোবিজ্ঞানে প্রশিক্ষিত মেডিকেল শিক্ষার্থী, যারা ব্যবহারকারীদের বার্তায় নিয়মিত সাড়া দেন।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
‘মনতরঙ্গ’ কেবল একজন ব্যবহারকারীকে সহায়তা করলেও সেটাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। প্লাটফর্মটি ভবিষ্যতে অ্যাপ সংস্করণে আসবে এবং দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে ‘মনতরঙ্গ রিপ্রেজেন্টেটিভ’ নিয়োগের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে সব স্তরে।