প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪ ২১:৫১ পিএম
রুয়ান্ডাকে হারালেই বিশ্বকাপের টিকিট। বিধ্বংসী বোলিংয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংÑ তাতেই রূপকথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ নম্বর ও শেষ দল হিসেবে প্রথমবার অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করে উগান্ডা। স্বপ্নযাত্রায় তারা হারিয়েছে বিশ্বকাপের নিয়মিত দল জিম্বাবুয়েকে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে উগান্ডার বন্ধুর জার্নি অল্পতে সংজ্ঞায়িত হলেও আদপে গল্পের বিস্তার বহুদূর। বিশ্বাস, দৃঢ় প্রত্যয় আর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যÑ ইতিহাস লিখতে ব্রায়ান মাসাবাদের কাঠখড় কম পোহাতে হয়নি। কোয়ালিফায়ার পর্বে তারা ছয় ম্যাচের মধ্যে জিতেছে পাঁচটি। আইসিসির আফ্রিকার অঞ্চল থেকে বাছাই শেষ করেছে শীর্ষ স্থানে। বাছাইয়ের মতো মূল পর্বেও আত্মবিশ্বাস ও নির্ভারতা পুঁজি উগান্ডার। প্রতিপক্ষকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে মূল রাস্তায় হেঁটেছেন। এখানেই আত্মবিশ্বাসকে পাখির চোখ করেছেন। অন্তত দলটির কোচ অভয় শর্মার মন্তব্যে সেটি স্পষ্ট।
আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠতব্য কুড়ি কুড়ির আসরে শক্তিশালী গ্রুপে উগান্ডা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ– নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান ও পাপুয়া নিউগিনি। তিন দলই আইসিসির পূর্ণ সদস্য। প্রতিপক্ষ ভীতি এবং সমূহ বাধা ভাবনাতে আনতে চান না উগান্ডার ভারতীয় কোচ। বিশ্বকাপ ভাবনা এবং দলের অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চায় উগান্ডা। বলেন, ‘আমরা শক্ত গ্রুপে আছি। গ্রুপের তিন দেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্য। তবে প্রতিপক্ষকে নিয়ে মাথা ঘামাই না। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের চেষ্টা থাকবে চাপের মধ্যে সেরা জিনিসগুলো বাস্তবায়ন করতে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই এগুতে চাই।’
মাসাবার নেতৃত্বে রূপকথা গড়া উগান্ডা এবার বড় দলগুলোর বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে গড়বে ইতিহাস! এমনটা নিশ্চিতভাবে না বলা গেলেও ভাবতে দ্বিধা নেই তাদের যাত্রা হবে ভয়-ডরহীন। তাদের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দিয়েছে প্রথম রাঙাতে কতটা মরিয়া উগান্ডা। কোচ শর্মা বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো চলছে। উন্নতির জন্য ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমরা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করছি এবং এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক। আমি সব সময় বাস্তববাদী হতে বলি। বিশ্বকাপের অন্যান্য দিক নিয়েও আমাদের আলোচনা হয়েছে।’
খেলোয়াড় এবং কোচের মনোভাব এক হলে ‘শিবিরে’ আত্মবিশ্বাস থাকে টইটম্বুর। টনিকের মতোই কাজ করে এটি। উগান্ডার কোচ বলছেন সে কথাই, ‘দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী। সব বিষয় নিয়েই কথা হয় শিবিরে। আমরা ভালো ফল আনতে মুখিয়ে আছি। ছেলেরা পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’
এখন পর্যন্ত ৯১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে উগান্ডা। ৬৯ জয়ের বিপরীতে এই সংস্করণে দলটির হার মাত্র ১৯টি। তাদের জয়ের হার ৭৮.৪০!