সিলেট টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৪ ১৫:২৯ পিএম
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৪ ২৩:৩১ পিএম
লঙ্কান পেস তোপে তাল সামলাতে পারেনি বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা— এএফপি
ঘণ্টাখানেক আগেও কামিন্দু মেন্ডিস যেভাবে বাংলাদেশের বোলারদের চার-ছক্কায় উড়িয়েছিলেন, মুহূর্তেই যেন সব পাল্টে গেল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিততে হলে বাংলাদেশকে তুলতে হবে ৫১১ রান। এমন বিশাল লক্ষ্যে লঙ্কান পেসারদের তোপে কুপোকাত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তদের টপ অর্ডার। তৃতীয় দিনে বোলিংয়ে খাবি খাওয়ার পর শেষ বেলায় ব্যাটিংয়ে দেখিয়েছে হতশ্রী পারফর্ম। স্কোরবোর্ডে ৪৭ রান তুলতেই হারিয়েছে ৫ ব্যাটার।
রবিবার দিনের খেলা শেষে তাই প্রশ্ন উঠেছে চতুর্থ দিনে কতটা সময় টিকতে পারে বাংলাদেশ। এখনও স্বাগতিকরা লঙ্কানদের থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬৪ রান পেছনে। হাতে মোটে পাঁচটি উইকেট। আগামীকাল সকালে ধসে পড়া দলকে পথ দেখাবেন মুমিনুল হক ও নাইটওয়াসম্যান হিসেবে তার সঙ্গী আছেন তাইজুল ইসলাম। লঙ্কানদের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন বিশ্ব ফার্নান্দো। একটি করে শিকার লাহিরু কুমারা ও কাসুন রাজিথার।
জয় পেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৫১১
রান পাহাড়ে চাপা বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেশন শেষে নাজমুল হোসেন শান্তদের সামনে ৫১১ রানের লক্ষ্য ছুড়েছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৯২ রান লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৮ রান করেছে লঙ্কানরা। জয় পেতে রেকর্ড গড়তে হবে স্বাগতিক দলকে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও ধনঞ্জয়া-কামিন্দুর সেঞ্চুরি
প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। তাদের লড়াকু ব্যাটিংয়ে মোটামুটি সংগ্রহ পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই দুই লঙ্কান ব্যাটার। এই দুই ব্যাটারের অনবদ্য ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশের সামনে পাহাড়সম টার্গেটের দিকে এগোচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্রটি।
সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার ২৮০ রানের জবাবে স্বাগতিক বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১৮৮ রানে। ৯২ রানে এগিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করছে সফরকারীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৬১ রান তুলে ফেলেছে লঙ্কানরা। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১০৮ রান করে ফিরলেও কামিন্দু অপরাজিত আছেন ১১৫ রানে। অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান প্রবাত জয়সুরিয়া ২১ রানে ব্যাট করছেন। তারা এগিয়ে আছে ৪৫৩ রানে।
দুই ইনিংসেই শতক করে রেকর্ড বইয়েও নাম লিখিয়েছেন ধনাঞ্জয়া ও মেন্ডিস। একই টেস্টের দুই ইনিংসে দুজন করে ব্যাটসম্যানের শতকের তৃতীয় ঘটনা এটি। ১৯৭৪ সালে গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছিলেন। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে মিসবাহ-উল-হক ও আজহার আলী দুই ইনিংসে শতক করেন। এ ছাড়া প্রথম শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক হিসেবে একই টেস্টের দুই ইনিংসে শতক করলেন ধনাঞ্জয়া।
অবশ্য আজ ফিল্ডিং ভালো হলে বাংলাদেশের জন্য গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। ইনিংসের ৭২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ধনাঞ্জয়ার ক্যাচ ফেলেছেন উইকেটকিপার লিটন দাস। তিনি তখন খেলছিলেন ৯৪ রানে। এরপর আরও একবার ধনাঞ্জয়াকে আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এবার ইনিংসের ৮১তম ওভারে খালেদ আহমেদের বলে মিড অনে ক্যাচ ফেলেন নাহিদ রানা।
শেষ পর্যন্ত মেহেদি হাসান মিরাজের বলে মিড উইকেটে জাকির হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে আউট হন মেন্ডিস। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭৯ বলে ১০৮ রান। ৯টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল তাতে। আর ১৭১ বলে কামিন্দু মেন্ডিসও তুলে নেন সেঞ্চুরি।