প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৪ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৪ ২১:২৩ পিএম
বাংলাদেশ নাারী দলের অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস।
আরাধ্য সাধন। স্বপ্ন জয়। অথবা এ গল্পের নাম হতে পারে অর্পিতা বিশ্বাসের ইচ্ছা পূরণ। প্রথম দেখাতেই ট্রফির প্রেমে মজেন বাংলাদেশ নন্দিনী। শিরোপা লড়াইয়ের আগে ফটোসেশনে এলেন, ছুঁয়ে (ট্রফি) দেখলেন, জয় করার প্রতিজ্ঞা করেন। ট্রফিপ্রেম তার ঘুম কাড়ে। করে পাগলপারা।
এ ট্রফি জিততেই চায়। উত্তরসূরিরা যা পারেনি তা জয়ের অদম্য বাসনা পোষেন অর্পিতা। সতীর্থদেরও দেন সেই বার্তা। টাইব্রেকারে ইয়ারজান বেগমের অসাধারণ নৈপুণ্যে ইচ্ছা পূরণের পর সেই গল্প শোনালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিবেশী ভারতকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। রবিবার (১০ মার্ছ) নেপালের কাঠমান্ডুতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। স্বপ্ন ধরা দেওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত অর্পিতা শোনালেন ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনের সময়কার কথা। বলেছেন, ‘যখন ট্রফিটা সামনে আনা হয় আমি খুব শিহরিত ছিলাম। যখন মোড়ক খোলা হয়, আমিই প্রথম দেখেছিলাম। তখনই ভেতরে এই অনুভূতি কাজ করছিল…যখন ট্রফি ধরতে ভারতের অধিনায়ককে বলা হলো, সে কিন্তু ধরেনি, আমি ধরেছিলাম।’
দেখা-স্পর্শ। প্রেমে মজা। দিন গুনতে থাকা। জয় করে দেশে নেওয়ার সংকল্প। কী চলছিল অর্পিতার মনে। খেলা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সে গল্প, “তখন (ফটোসেশনের সময়) থেকেই আমার মনে হয়েছে আমি যেহেতু ট্রফিটা প্রথম স্পর্শ করেছি, আমরা দেশে নিয়ে যাব। সতীর্থদেরও আমি এটা বলেছি, ‘ট্রফিটা আমি ছুঁয়েছি, এটা যেন ভারতের কেউ নিতে না পারে।’ আমি সার্থক হয়েছি।”
টুর্নামেন্টে গোলপোস্টের অতন্দ্রপ্রহরী ছিলেন ইয়ারজান বেগম। রাউন্ড রবিন লিগের জয়ের নায়ক ফাইনালেও সেরা। টাইব্রেকারে তিনটি শট রুখে প্রতিযোগিতায় সেরা গোলরক্ষকের মুকুট উঠেছে তার মাথায়। প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসে সেরার স্বীকৃতি পেয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত তিনি। ‘সেরা গোলরক্ষক হওয়ার কৃতিত্ব কাকে দিতে চান?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা ও কোচকে দিতে চাই।’
ফাইনাল শেষে জাতীয় নারী দলের গোলরক্ষক কোচ আরিফুর রহমান পান্নু স্তুতি গান ইয়ারজানের, ‘আসলে আমরা কোচরা পদ্ধতি বা টেকনিক শিখিয়ে দিতে পারি। আজকে জয়ের অবদান সম্পূর্ণ ইয়ারজানের। ওর ইচ্ছেতেই এটা হয়েছে।’ টাইব্রেকারের সময় ইয়ারজানকে সাহস দিয়েছিলেন কোচ পান্নু, ‘টাইব্রেকারের সময় ও কান্না করছিল। আমি বলেছিলাম, তুমি তোমার মতো খেল। একটা সেভ দাও। তোমার ওপর আমার বিশ্বাস আছে। সে খেলেছে এবং বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওর জন্য শুভকামনা।’
টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করা বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সুরভী আকন্দ প্রীতি পেয়েছেন প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। দলীয় অর্জনেই বেশি খুশি প্রীতি প্রশংসায় ভাসালেন ইয়ারজানকে। বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ স্কোরার হতে না পারার জন্য আফসোস করছি না। কেননা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দরকার ছিল, সেটা হয়েছি। আমাদের ইয়ারজান যে সেভ দিয়েছে…ওর প্রতি আমাদের আলাদা আত্মবিশ্বাসই ছিল যে, ও ভালো কিছু করবে, আমরা পেনাল্টিতে (টাইব্রেকারে) জিতব। ইনশাআল্লাহ আমরা জিতেছি।’
মুকুট জিততে পারায় অন্য রকম আনন্দ অনুভব করছেন বাংলাদেশ কোচ। সাইফুল বারী টিটু বলেছেন, ‘এটার আনন্দ অন্য রকম। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে। অনূর্ধ্ব-১৬ দলটা তৈরি করার জন্য হাতে সময় ছিল কম, সেদিক থেকে ওরা যেটা করেছে, অসাধারণ। যেভাবে মেয়েরা পারফর্ম করেছে, আমি মনে করি, সব কৃতিত্ব তাদের দেওয়া উচিত।’