অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:০৯ পিএম
নেপালের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে রাব্বিদের জিততে হবে পাকিস্তান যুবাদের বিপক্ষেও— ছবি: সংগৃহীত
সুপার সিক্স মিশনে অনেক জটিল সমীকরণ মেলানোর চ্যালেঞ্জ জুনিয়র টাইগারদের সামনে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে প্রাথমিক শর্ত সুপার সিক্স পর্বে জিততে হবে দুটো ম্যাচেই। সেই চ্যালেঞ্জে মাহফুজুর রহমান রাব্বিদের প্রথম পরীক্ষা গ্রুপ পর্বে চমক দেখানো নেপাল। এরপর জিততে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষেও। শেষ চারে যাওয়ার জন্য এই দুটো ম্যাচ জয়ই যথেষ্ট নয়। অনেক ‘যদি-কিন্তু’র হিসাবও থাকতে হবে পক্ষে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে রানরেটও। এমনি অবস্থায় আগামীকাল বুধবার নেপালের বিপক্ষে নামছেন রাব্বি-শিবলীরা।
সুপার সিক্সের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ব্লুমফন্টেইনে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে রাব্বি ব্রিগেডকে। আরেকটু সহজ করে বললে, আসরে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার ম্যাচ জুনিয়র টাইগারদের। বাংলাদেশের ছয় দলের গ্রুপ থেকে সেমিতে যাবে দুটি দল। সেখানে আগেই শেষ চারের পথ অনেকটা পাকা করে রেখেছে ভারত ও পাকিস্তান। তার ওপর গ্রুপে আছে নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মতো দল। ‘যদি-কিন্তু’র জটিল হিসাব কষতেই হচ্ছে সবাইকে। বলাই যায় জিততে তো হবেই, সেই সঙ্গে সুপার সিক্সের ফাঁদ এড়ানোর জন্য লাগবে ভাগ্যের ছোঁয়াও।
চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথম রাউন্ডে খেলছে ১৬টি দল। প্রতি গ্রুপ থেকে ৩টি করে দল উঠবে সুপার সিক্সে। সেখানে ১২টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। তবে পরের দুটিতে রাব্বি-আরিফুলরা পান দাপুটে জয়, নিশ্চিত করেন সুপার সিক্স। তবে প্রথম হারেই সমীকরণে পিছিয়ে পড়েন টাইগার যুবারা। ‘ডি’ গ্রুপে প্রথম ও তৃতীয় স্থান পাওয়া দল অর্থাৎ পাকিস্তান ও নেপালের সঙ্গে খেলবেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। আফগানিস্তানকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে দেওয়া নেপালের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের জিততেই হবে। এরপর তারা মুখোমুখি হবে পাকিস্তানের। বাংলাদেশের জন্যও অভিন্ন বাস্তবতা। জিতলে বেঁচে থাকবে সেরা চারের আশা। হারলে এখানেই থামতে হবে ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে।
শক্তিমত্তা, হিসাবনিকাশ কিংবা পরিসংখ্যান— সবদিক থেকেই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে নেপাল। তারপরও হিমালয়ের দেশটির বিপক্ষে মানগাউং ওভালে মাঠের লড়াইয়ে সেরাটা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই রাব্বিদের। এমনিতেই ‘ডি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি ভারতের। তার ওপর ছয় দলের গ্রুপ থেকে যাবে মোটে দুটি দল। তাই জুনিয়র টাইগারদের জন্য কম শক্তির নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি ডু অর ডাই।
ব্লুমফন্টেইনে নেপালের বিপক্ষে অঘটনের শিকার হলে সেমিফাইনালের আগে বিদায়ঘণ্টা বেজে যাবে রাব্বিদের। আবার পাকিস্তানকে ৩ ফেব্রুয়ারি হারালেও বাংলাদেশ যে সেমিতে উঠবেই, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কেননা অনেক জটিল হিসাব মেলানোর চ্যালেঞ্জ থাকছেই লাল-সুবজ প্রতিনিধিদের। তবে সেমির রেসে থাকার জন্য মাহফুজুর রহমান রাব্বি ব্রিগেডের জন্য প্রথম শর্ত, নেপালের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে জিততে হবে পাকিস্তান যুবাদের বিপক্ষেও।
নেপাল কম শক্তির হলেও বিশ্বকাপে সবশেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছে তারা। আত্মবিশ্বাস পাওয়া দলটির ব্যাটিংস্তম্ভ অধিনায়ক দেব কাহনাল ও অর্জুন কুমাল পথের কাঁটা হতে পারেন মারুফ মৃধাদের। চলতি বিশ্বকাপে এখন অবধি তিন ম্যাচে ৩৯ গড়ে ১১৭ রান করেছেন দেব। অর্জুনের ব্যাট থেকে ১০৬ রান এসেছে ৩৫.৩৩ গড়ে। বোলিংয়ে অভিজ্ঞ আরিফুল-আহরারদের পরীক্ষা নিতে পারেন আকাশ চান্দ ও দিপেশ কান্দেল। ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে ফেলার ক্ষমতা আছে নেপালি বোলার আকাশের। যুব বিশ্বকাপে এখন অবধি তিন ম্যাচে ৮ উইকেট শিকার করেছেন আকাশ। দিপেশের ঝুলিতেও আছে ৪ উইকেট।
ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় নেপালের চেয়ে এগিয়ে বেশি টাইগাররা। আরিফুল এখন অবধি যুব বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচে রান করেছেন ৪৮৩। ব্যাট করছেন ৫০ ছুঁইছুঁই গড়ে। আরেক ব্যাটার আমিনেরও আছে আটটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। ৫৭.১৭ গড়ে ব্যাট চালান আমিন। সঙ্গে টাইগারদের লম্বা ব্যাটিং লাইনআপে আছেন জিসান, রাব্বি, শিবলী এবং রিজওয়ানরা। বোলিংয়েও বেশ এগিয়ে রাব্বির দল। অপেক্ষা এবার মঞ্চায়নের। থাকছে আসরে এগিয়ে যাওয়ারও। জিতলে টিকে থাকবে আশা, হারলে বাজবে বিদায়ঘণ্টা। সব কথার এক কথা— যুবাদের শেষ চারে ওঠার পথটা মোটেও সহজ নয়।