প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ০০:১৮ এএম
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৫৬ এএম
শেষ ওভারের রোমাঞ্চ জিতল জিম্বাবুয়ে। ছবি : সংগৃহীত
শেষ ওভারে জিম্বাবুয়ের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। বল হাতে এলেন আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। কিন্তু এবার ক্যাপ্টেনের আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন না অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ডান-হাতি এই মিডিয়াম পেসারের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয়ের আনন্দে ভাসালেন লুক জঙ্গুয়ে ও ক্লাইভ মাদান্ডে।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) কলম্বোয় সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ ওভারের রোমাঞ্চে ১ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১-এ সমতায় ফিরল সিকান্দার রাজার দল। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে পাঁচবারের দেখায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল জিম্বাবুয়ে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চারিথ আসালাঙ্কা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের জোড়া ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে শ্রীলঙ্কা। আসালাঙ্কা ৬৯ ও ম্যাথিউস অপরাজিত ৬৬ রান করেন।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে। ক্রেইগ আরভিন ৭০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে জঙ্গুয়ে ২৫ ও মাদান্ডে ১৫ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন।
শেষ ওভারের শুরুতেই লড়াই নতুন নাটকীয় মোড় নেয়। প্রথম ডেলিভারিই নো বল করে বসেন ম্যাথিউস, লং-অন দিয়ে ছক্কায় ওড়ান জঙ্গুয়ে। পরের ২ বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে লক্ষ্যের ধারে নিয়ে যান তিনি। পরের বল রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করেন ম্যাথিউস। ব্যাটে লাগাতে পারেননি জঙ্গুয়ে।
লঙ্কানদের ম্যাচে ফেরার সুযোগ আসে এর পরের বলেই, ছক্কার চেষ্টায় বল আকাশে তুলে দেন জঙ্গুয়ে। কিন্তু সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি মাহিশ থিকশানা, আসে ১ রান। শেষ ২ বলে যখন দরকার ২ রান, লেগ সাইড দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দেন মাদান্ডে, বুনো উল্লাসে মাতে জিম্বাবুয়ে। ওভার থেকে আসে ২৪ রান!
২টি করে ছক্কা-চারে ১২ বলে অপরাজিত ২৫ রান করা জঙ্গুয়ে বল হাতে নেন ২ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই। ২ ছক্কায় ৫ বলে ১৫ রান করেন মাদান্ডে।
জিম্বাবুয়ের জয়ের ভিত অবশ্য গড়ে দেন ক্রেইগ আরভিন। ২ ছক্কা ও ৬ চারে ৫৪ বলে ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি।
রান তাড়ায় শুরুতেই অবশ্য উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে; দ্বিতীয় ওভারে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েও কিছু করতে পারেননি টিনাশে কামুনহুকামউই, ফিরে যান একটু পরই। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে লক্ষ্যের পথে এগিয়ে নেন আরভিন ও ব্রায়ান বেনেট।
তাদের জুটি ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ৩৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া আরভিনও সপ্তদশ ওভারে ফিরে গেলে জিম্বাবুয়ের বিপদ আরও বাড়ে। অনেকে হয়তো তাদের হার দেখে ফেলেছিলেন তখন। সেখান থেকেই ১৪ বলের অবিচ্ছিন্ন ৩৫ রানের জুটিতে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন জঙ্গুয়ে ও মাদান্ডে।
ম্যাচের প্রথম ভাগে সব আলো ছিল চারিথ আসালাঙ্কা ও ম্যাথিউসের ওপর। ১৭ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে কক্ষপথে রাখেন তারাই। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দুজনে গড়েন ৭৯ বল স্থায়ী ১১৮ রানের জুটি, টি-টোয়েন্টিতে যা শ্রীলঙ্কার পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল ভানুকা রাজাপক্ষ ও আসালাঙ্কার ৮৬ রানের জুটি।
৩ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৯ বলে ৬৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন আসালাঙ্কা। ম্যাথিউসের ৫১ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি গড়া ২ ছক্কা ও ৬ চারে। তাদের নৈপুণ্যে লড়াই করার মতো পুঁজি পেলেও দিন শেষে তা যথেষ্ট হয়নি।
বৃহস্পতিবার সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।