প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:২৮ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন থেকে চতুর্থ মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। তবে এবারই প্রথমবারের মতো পাপন আসছেন মন্ত্রিসভায়। কিন্তু তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও জানানো হয়নি।
এদিকে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন পাপন। যদিও একই সঙ্গে দুই দায়িত্বে থাকতে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যাকে নিয়ে এত আলোচনা তার ভাবনাই আসলে কী? অবশেষে পাপন নিজেই এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের শপথ গ্রহণ করতে বঙ্গবভনে উপস্থিত হন পাপন। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এ সময় বিসিবি সভাপতির পদ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান পাপন।
মন্ত্রী হওয়ায় বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, এমন প্রশ্নে পাপন বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে বিসিবির সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। আগেও আমাদের এখানে অনেক মন্ত্রী ছিলেন, যারা বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশেও আছে। কিন্তু সেটা ইস্যু না। আমার আগে থেকেই ইচ্ছে ছিল, এই মেয়াদেই দায়িত্ব ছাড়ার। যেটা শেষ হবে আগামী বছর। আমি চেষ্টা করব এ বছর শেষ করা যায় কি না’।
এর আগেও একই সঙ্গে বিসিবির সভাপতি ও মন্ত্রিত্ব পালন করেছেন বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিসিবি সভাপতি ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। সে সময় সংসদ সদস্য থাকাকালীনই প্রায় সাড়ে তিন বছর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
তার আগে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একই সঙ্গে ছিলেন বিসিবি সভাপতি। এরপর আবু সালেহ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানও ৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত পাক্কা পাঁচ বছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিসিবি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
এদিকে শুধু বিসিবির দায়িত্বেই নয়, আইসিসিরও বেশ কিছু দায়িত্বে আছেন পাপন। তাই মেয়াদ শেষের আগে বিসিবির দায়িত্ব ছাড়তে চাইলেও আইসিসির দায়িত্ব ছাড়া নিয়ে কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হবে তাকে।
পাপন বলেন, ‘আইসিসির আবার কিছু নিয়ম-কানুন আছে। ওদের বেশ কিছু কমিটিতে আমি আছি। বিশেষ করে চেয়ারম্যানও আছি। ওরা আবার এটা পরিবর্তন করে না। মেয়াদ শেষ করার আগে নতুন কাউকেও নেয় না। সামনের বছর তো এমনিতেই করতাম। চেষ্টা করব, এ বছর শেষ করা যায় কি না।’
২০১২ সালের অক্টোবর মাসে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন পাপন। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। টানা চতুর্থ মেয়াদে তিনি এই দায়িত্বে রয়েছেন। সবশেষ ২০২১-এর নির্বাচনে বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। সেখান থেকে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি হন পাপন। যে কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালে।