প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪ ২৩:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:১৯ পিএম
জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার
না ফেরার দেশে চলে গেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। ৭৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জার্মানির এ ফুটবল লিজেন্ড। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা তিন জনের এক জন তিনি। বেকেনবাওয়ারের পরিবার আজ এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
বেকেনবাওয়ারের মহাপ্রয়াণে ফুটবল দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দিন কয়েক আগে পরোলোকে চলে গেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি মারিও জাগালো। তার বিদায়ের শোক ভোলার আগেই ফুটবল অনুরাগীরা ডুবলেন নতুন শোকে।
সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার পশ্চিম জার্মানির জার্সি গায়ে ১৯৭৪ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতেন। পরে ১৯৯০ সালে বিশ্ব জয় করেন কোচ হিসেবে। জার্মানির জার্সি গায়ে জড়িয়ে বেকেনবাওয়ার মাঠ কাঁপিয়েছেন সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচে। তার বর্ণিল ফুটবল ক্যারিয়ারে কীর্তি আছে আরও অনেক।
১৯৭০ এর দশকে বুন্দেসলিগার জায়ান্ট ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে উপহার দেন হ্যাটট্রিক ইউরোপিয়ান কাপ। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের মুকুটে দারুণ দারুণ পালক যোগ করে গেছেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারদের একজনও তিনি।
ফুটবল দুনিয়ায় ‘কাইজার’ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন বেকেনবাওয়ার। ডিফেন্সে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। শুধু বলের দখলেই দক্ষ ছিলেন না। আধুনিককালের সুইপার বা লিবেরো হিসেবেও তার জুড়ি মেলা ছিল ভার।
খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর বেকেনবাওয়ার দুর্নীতির অভিযোগেও অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল - ২০০৬ বিশ্বকাপের আয়োজকস্বত্ব পেতে ফিফা সদস্যদের ভোট কিনতে তহবিল করেছিল বেকেনবাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জার্মান বিডিং কমিটি।
২০১৭ সালে এই অভিযোগ উঠলে সুইস প্রসিকিউটরদের কাছে জবাবদিহি করেন। নেতিবাচক অংশটুকু বাদ দিলে ফুটবলার ও কোচ হিসেবে বেকেনবাওয়ারের ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যমণ্ডিত।
মিউনিখের গিয়েসলিংয়ে বেকেনবাওয়ারের জন্ম ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বরে। শৈশবে '১৮৬০ মিউনিখ' ক্লাবকে ভালোবাসতেন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠা এই জার্মান। কিন্তু বয়সভিত্তিক ফুটবলের জন্য তিনি যোগ দেন মিউনিখের অন্য এক ক্লাব বায়ার্নে।
শুরুর দিকে বেকেনবাওয়ার ছিলেন একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড। বায়ার্নের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ম্যাচ খেলেন ১৯৬৪ সালে। তখন ক্লাবটি ছিল জার্মানির দ্বিতীয় সারির। বায়ার্নের হয়ে পরে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে শুরু করেন। শেষে ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা শুরু করেন। বায়ার্নকে বুন্দেসলিগায় নিয়ে যান বেকেনবাওয়ার। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে দলের অধিনায়ক প্রথমবারের মতো বুন্দেসলিগার শিরোপাও উপহার দেন।