প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ২৩:৩১ পিএম
সাকিব আল হাসান নেই। তাতে কী? অভাবটা বুঝতেই দিলেন না তাইজুল ইসলাম। তার বাঁ হাতের ঘূর্ণিজাদুতেই বাংলাদেশ এখন বুনে চলেছে লিডের স্বপ্ন। সিলেটে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৬ রানের পুঁজি গড়েছে নিউজিল্যান্ড। আর সেটা সম্ভব হয়েছে কেন উইলিয়ামসনের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে। টাইগারদের ক্যাচ মিসের সুযোগে জীবন পেয়েছিলেন কিউইদের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক। সুযোগটা পেয়েই কাজে লাগান। তবে তাইজুলের সঙ্গে অন্য স্পিনারদের মিলিত আক্রমণে তিনশর আগেই অতিথিদের অলআউট করার অপেক্ষায় রয়েছেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
৪ উইকেট শিকার করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাইজুল। তার সুনিপুণ স্পিন বোলিং পারফরম্যান্সের জয়গান গাইলেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ- ‘সাকিব খেলছে না, তবে তাইজুল বড় এক ভূমিকা পালন করছে। সে একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক। সে সব সময় লাইন-লেন্থের ওপর নির্ভর করে। সেটাই ধরে রাখতে হবে।’
তাইজুলের সঙ্গে নাঈম হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজরাও স্পিনে কিউইদের ভুগিয়েছেন ইনিংসজুড়ে। তাদের স্তুতি গাইতেও ভুল করেননি হেরাথ, ‘নাঈম কয়েক বছর পর খেলছে। যে খেলোয়াড় দলে ছিল না সে এসে এত ভালো করছে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সে ভালো চাপ তৈরি করেছিল। ভালো লাইন-লেন্থে বল করেছে, আত্মবিশ্বাসীও ছিল। সে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভালো এক সম্ভাবনা।’
সিলেটে স্পিনাররা রাজত্ব করবেন। এটা তো আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। নিউজিল্যান্ডের স্পিনাররাও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে প্রভাব বিস্তার করেন। কিউইদের প্রথম ইনিংসের চিত্রনাট্যও ছিল একই। সফরকারীদের ৮ উইকেটের ৭টিই গেছে দেশের স্পিনারদের পকেটে। স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে এমন দিনই তো আরাধ্য হেরাথের জন্য।
শিষ্যদের সাফল্যে খুশি না হয়ে কি উপায় আছে! দলের স্পিন বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে হেরাথের উচ্ছ্বাসের ঢেউ যেন ছড়িয়ে পড়ল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের চারদিকে, ‘সব মিলে স্পিনাররা ভালোই করেছে। তবে আমরা আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারতাম। আমরা ৮ উইকেট শিকার করেছি, সে হিসাবে দিনটা ভালোই। তাইজুল আমাদের লিডিং স্পিনার। অনেক দিন ধরেই সে আমাদের জন্য লড়ছে। সে চাপ সৃষ্টি করে, ভালো করতে মরিয়া হয়ে থাকে। এভাবেই আজ ৪ উইকেট পেয়েছে। উইকেট অনুযায়ী বল করে। দারুণ অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও খেলা বোঝার ক্ষমতা আছে তাইজুলের। আমি তার বোলিং নিয়ে খুশি।’
যে তাইজুল স্পিন ভেলকিতে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দিয়েছেন। মাঠের লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছেন দেশের হাতে। গতকাল সেই তাইজুল মিস করেন উইলিয়ামসনের সহজ ক্যাচ। ৬৩ রানে বেঁচে গিয়ে ১০৪ রানের দাপুটে ইনিংস খেলে শেষে তাইজুলের স্পিনজাদুতে পরাস্ত হন। ৭০ রানের মাথায় উইলিয়ামসন ফের জীবন পান। এবার তার ক্যাচ মিস করেন শরিফুল ইসলাম। ক্যাচ দুটোর একটিও যদি মিস না হতো, তাহলে কিউইদের সংগ্রহ ২৬৬ রানে যেত না। টিম সাউদির দল অলআউট হয়ে যেতে পারত দ্বিতীয় দিনেই।
সেক্ষেত্রে দিনের শেষদিকে ব্যাটিং করতে পারত টাইগাররা। গতকাল প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ ক্যাচ মিসের মহড়ার প্রভাব নিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই। এভাবে ক্যাচ ছেড়ে দিলে তো মূল্য চুকাতে হবে। যেমন উইলিয়ামসনেরটা। সুযোগ পেয়ে সে ৬০-৭০ রান বেশি করেছে। আমাদের এসব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
বাংলাদেশের স্পিন বোলারদের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লঙ্কান এ ক্রিকেট গুরু বলেন, ‘কোচ হিসেবে অনেক কিছু শেখার ছিল। একইভাবে আমি আমার অভিজ্ঞতা ছেলেদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করেছি। প্রতিটি দিনই শেখার। আশা করছি তারা আমার কাছ থেকে কিছু না কিছু নিয়ে এর চর্চা করবে।’
স্পিনারদের সঙ্গে হেরাথ প্রশংসায় পঞ্চমুখ বাংলাদেশের পেসারদেরও, ‘ক্রিকেট দলীয় খেলা। তাই কম্বিনেশন এবং ব্যালেন্স জরুরি। আমাদের দারুণ ফাস্ট বোলিং অ্যাটাক আছে। স্পিনাররা কীভাবে ভূমিকা রাখছে সেদিকেও নজর রাখতে হয়। পুরোটাই বোঝাপড়া আর সচেতনতার ব্যাপার।’
চলতি নভেম্বর শেষে বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে রঙ্গনা হেরাথের। সাবেক এ লঙ্কান স্পিনার বাংলাদেশের সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করতে রাজি নন। তার অধীনে দেশের স্পিনাররা বেশ ভালোই পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য দুটোই দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ অধ্যায় শেষ করতে যাচ্ছেন। তার আগে নতুন কোচের সঙ্গে শিষ্যদের কাজ করার কৌশলও বাতলে দিয়েছেন হেরাথ।
হেরাথ দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তার উত্তরসূরি হবেন নতুন কেউ। নতুন কোচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্পিনারদের পরামর্শ দিয়ে রাখলেন হেরাথ, ‘আমি ছেলেদের সঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি। আসল ব্যাপার হলো নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারা, নিজের শক্তির জায়গা চিহ্নিত করতে পারা। সেটা বুঝতে পারলেই নতুন কোচের অধীনে ছেলেরা ভালো করবে।’