প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৯ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৪ পিএম
‘ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না/জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না’- ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের কবিতাটা অন্তর্জালের কল্যাণে শুনে থাকলেও থাকতে পারেন আপনি। তবে আর্চারি কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ যেন সে কবিতার পুরো উল্টো মানুষটাই। পুরোপুরি নয় অবশ্য, কাজ নিয়ে ‘সিরিয়াস’ তিনিও। তার পার্থক্যটা অবশ্য বাকি দুই বৈশিষ্ট্যে, জার্মান এই কোচ সদা হাস্যোজ্জ্বল; বাংলাটাও ভালোই আসে তার।
বাংলাদেশে আছেন পাঁচ বছর হয়ে গেল সম্প্রতি। দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালোই জানাশোনা হয়ে গেছে তার। যোগ দেন দেশের বিভিন্ন বিশেষ দিবস উদযাপনেও। গতকাল সকালেই যেমন আর্চারি ফেডারেশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে শামিল হলেন।
আর্চারি ফেডারেশন শহীদ আহসানউল্লাহ স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিআইপি গ্যালারির ঠিক নিচেই তৈরি করেছে অস্থায়ী শহীদ মিনার। গতকাল সেখানেই কোচ ফ্রেডরিখ তার শিষ্যদের নিয়ে সম্মান জানিয়েছেন শহীদদের। বললেন, ‘আজকে সকালে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করলাম। এখানে পাঁচ বছর ধরে থেকে আমি ভালোই জেনেছি। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে বেশ জানি আমি।’
এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অবশ্য কোচ ফ্রেডরিখ মনে রেখেছেন একটা ভিন্ন কারণেও। বাংলাদেশ অধ্যায়ের সবচেয়ে পুরোনো স্মৃতিটাও যে এক মাতৃভাষা দিবসেরই! ২০১৮ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ছিল ২১ ফেব্রুয়ারি। সে স্মৃতি রোমন্থনে ফ্রেডরিখ বলেন, ‘২০১৮ সালে প্রথম বছর আমি এসেই এতে শামিল হয়েছিলাম। এরপর জানতে পারলাম এটাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশের কারণেই বহির্বিশ্বে দিবসটা পালন করা হয় জেনে বেশ ভালো লেগেছিল।’
এরপর অবশ্য একে একে কেটে গেছে ৫ বছর। কোভিডের কারণে একটা বছর বাদ দিলে দেশের আলো-বাতাসের সঙ্গে ভালোই চেনাশোনা হয়ে গেছে তার। বাংলা এখন তাই তার খানিকটা আপন ভাষাও। কোচ যেমন বললেন, ‘বাইরে যখন বেরোই তখন রিকশাওয়ালাদের সঙ্গে ‘এ খালি’ বলে ডাকি, এরপর তাদের নির্দেশনা দেই ‘ডানে যাও, বামে যাও, সোজা যাও’... এরপর অনুশীলনে কেউ ভালো করলে ‘শাবাশ’, ‘ভালো’...’
তবে ভাষার চেয়ে এখানকার খাবার বেশি ভালো লাগে ফ্রেডরিখের। কথার প্রসঙ্গে ‘সবজি’টা বললেন বাংলাতেই। বললেন, ‘এখানে সবজিটা ভালো লাগে, আরে এটাও তো বাংলা শব্দ। এখানকার খাবার ভালোই। তবে ঝালটা বেশি হয়ে গেলে ভালো নয়। এখানকার মাছও বেশ ভালো লাগে।’
বাংলাদেশে এসে সবচেয়ে বেশি আপন করে নিয়েছেন এখানকার পোশাককে, ‘এই যে এখন সাধারণ সম্পাদক চপল (রাজিব উদ্দীন আহমেদ) সাহেবের বাসায় আছি, এখানেও এসেছি পাঞ্জাবি পরে। একবার তো একটা অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলাম পাঞ্জাবি পরেই! এখান থেকে যখন বাসায় ফিরব, তখন আবার কী বলেন আপনারা, লুঙ্গি পরব। তো বুঝতেই পারছেন!’
জার্মান হয়েও বাংলাটা এখন ভালোই আসে ফ্রেডরিখের। ৫ বছর সময়টা তো একেবারে কমও নয়!