প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০৩ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মঈন খানের ছেলে আজম খান।
আজম খানের বয়স তখন ২০। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ২০১৯ সালের আসরে যখন ব্যাট হাতে নামলেন তখন একটাই কথা চলছিল, ‘বাবার জোরে সুযোগ পেয়েছেন’। কথাটি প্রতিষ্ঠা পেল যখন কোয়েটা গ্লাডিয়েটরসকে ১৫ বলে এনে দিলেন ১৩ রান। শুরু হলো ট্রল, সাবেক অধিনায়ক মঈন খানের ছেলে হওয়াও যেন তার দোষ।
এখানে-ওখানে সবখানে সমালোচনা। আজম সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন বুঝি স্থূল শরীর নিয়ে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদসহ অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা কোনো রাখঢাক না রেখে বলে দিলেন, ‘ওজন কমাও নাহলে ক্রিকেট ছাড়ো’। ক্রিকেটে পারফর্ম করা বা ফিটদের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য আদৌ কি ফিটনেস এক এবং অন্যতম বিষয়? এমন প্রশ্ন রাখা হয়েছিল আজম খানসহ স্থূল শরীর নিয়ে সমস্যায় পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের রাহিম কর্নওয়াল, দক্ষিণ আফ্রিকার নারী দলের ওপেনার ব্যাটার লিজেল লি ও পুরুষ দলের পেসার সিসান্ডা ব্রুস মেঘলার কাছে। সবারই এক কথা, ‘স্থূল শরীর আমার অভিশাপ নয়। রান করতে না পারলে সেটা নিয়ে সমালোচনা করুন, শরীর নয়।’
আজম খান থেকে রাহিম কর্নওয়াল হয়ে সিসান্ডাÑ স্থূল শরীর থাকার কারণে সবাইকে শুনতে হয়েছে কটু কথা, সতীর্থ কিংবা দর্শকদের হাসির পাত্রও বনেছেন। চারজনকেই পেরোতে হয়েছে কঠিন সময়। দক্ষতায় নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে পারলেও আটকে গেছেন ফিটনেস ইস্যুতে, জায়গা হয়েছে বেঞ্চে। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলা আজম খান ২০১৯ সালে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েও থেমে থাকেননি। বাবার পরিচয়ের খোলস ভাঙার জন্য করেছেন হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম। খাবার কমিয়ে, অনুশীলন বাড়িয়ে এক বছরে কমিয়েছেন ৩০ কেজি ওজন। পরের বছর পিএসএলে ফিরেই খেলেন ইনিংসজয়ী ফিফটি। এক বছরের মাঝে জায়গা করে নেন জাতীয় দলে, ২০২২ সালের আসরটিতে নিজেকে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায়। দেশের বাইরে বার্বাডোজ রয়্যালসের হয়েও রেখেছেন মান, কদিন আগে খুলনা টাইগার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। কিন্তু এই আজম খানকেও শরীর ইস্যুতে শুনতে হয়েছে ‘খেলা ছেড়ে দাও’। বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েও একদম শেষ মুহূর্তে বাদ পড়ার ঘটনাও ঘটে স্থূল শরীরের আজমের সঙ্গে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মঈন খানের ছেলে পরিচয়ে এখন আর থাকতে চান না আজম। শুনিয়েছেন প্রত্যয় এবং আক্ষেপের কথা, ‘বাবা পাকিস্তানের হয়ে খেলতেন বলে সবাই তার সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে দেয়। তার ঘরে জন্ম নেওয়া তো দোষের না। যখন পিএসএল খেলা শুরু করলাম তখন আমার শরীর নিয়ে সমালোচনা শুরু হলো। আমি স্থূল, আমার শরীর ভালো মানের ক্রিকেটের সঙ্গে নাকি যায় না।’
ঠিক একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন প্রোটিয়া মেয়ে দলের তারকা লি এবং ছেলেদের ক্রিকেটের সিসান্ডা। বছরখানেক আগে স্থূলতা ইস্যুতে বোর্ডের দিকে আঙুল তুলে অবসরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন লি। বাদ পড়া থেকে শুরু করে ট্রায়ালেও তাদের শুরুর দিকে দৌড়াতে হয়েছে দুই কিলোমিটার। নির্বাচকদের ফিটনেস ইস্যুতে খুশি করার পরও নানা কারণে থেকেছেন অচ্ছুত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে নয়টি টেস্ট খেলা কর্নওয়ালের সঙ্গেও ঘটেছে এমন কিছু। ভারী এবং দীর্ঘদেহী ক্রিকেটার হিসেবে বডিশেমিংয়ের শিকার ২৯ বছরের তারকা বলেছেন, ‘আমার শরীরের গঠন পরিবর্তন করতে পারব না। আমি অনেক লম্বা অথবা অনেক বড়Ñ এটাও বলব না। সবাই ছোট হবে না, সবাই স্লিমও হবে না। আমি যা করতে পারি তা হলো সেরাটা বের করা, নিজেকে ফিরিয়ে আনা এবং দক্ষতা দেখানো।’
রাহিম কর্নওয়াল (অলরাউন্ডার)
২৯ বছর, উচ্চতা ৬ ফুট, ওজন ১৪০ কেজি
আজম খান (উইকেটরক্ষক ব্যাটার)
২৪ বছর, উচ্চতা ৬ ফুট, ওজন ১১৮ কেজি
সিসান্ডা মেঘলা (পেসার)
বয়স ৩২, উচ্চতা ৬.২ ফুট, ওজন ৭০ কেজি