গ্রাফিক্স: স্কোরার হেরাল্ড
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বাঁচা-মরার ম্যাচে মাঠে নামছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুদলই এই ম্যাচ জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
শক্তির বিচারে অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, এই লড়াইয়ে এগিয়ে বেলজিয়াম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। যার মধ্যে তিনটিতে জিতেছে বেলজিয়াম, একটি ম্যাচ জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর একটি হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে দুদলের একমাত্র দেখাও জিতেছিল বেলজিয়াম। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ইউরোপের দলটি। সেই স্মৃতি এবারও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে বেলজিয়ানদের। এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্সও কম চোখে পড়ার মতো নয়। গ্রুপ ডিতে তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে তারা। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। বেলজিয়ামও নিজেদের গ্রুপে দারুণ লড়াই করেছে। গ্রুপ জি-তে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে দলটি। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে তারা। দুদলের শক্তির জায়গাও ভিন্ন। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবারের আসরে শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে সাফল্য পাচ্ছে। অন্যদিকে বেলজিয়ামের বড় শক্তি অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগ। কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও জেরেমি ডকুর মতো তারকাদের উপস্থিতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি দুশ্চিন্তার খবরও রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে নতুন সমাধান খুঁজতে হবে স্বাগতিকদের। ঘরের মাঠে স্বাগতিকরা পাবে দর্শকের সমর্থন। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপে টিকে থাকতে সর্বোচ্চটা দিয়েই মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিপক্ষকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘মহান মুহূর্তের জন্ম হয় বড় সুযোগ থেকে। এখন আমাদের সামনে সেই সুযোগ। আমরা নিজেদের মাঠে খেলছি, সমর্থকদের বিশ্বাস অনুভব করছি। এই ম্যাচটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।’
দলটির ডিফেন্ডার সার্জিনো ডেস্ট বলেন, ‘আমরা জানি, বেলজিয়াম দারুণ দল। তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।’
বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া বলেন, সেনেগালের বিপক্ষে আমরা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস হারাইনি। একটি গোল করার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। সেই মানসিক শক্তিই আমাদের এগিয়ে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও একই আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামব।
দলটির ডিফেন্ডার মাক্সিম ডি কিউপের বলেন, প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে। মার্চে ৫-২ জয় পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেই ফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাবে না। এখনকার যুক্তরাষ্ট্র অনেক ভালো দল।