স্পেন-পর্তুগাল লড়াই
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে এ সময়ে বিশ্ব ফুটবলের দুই সাড়া জাগানো দল লামিন ইয়ামালের স্পেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হতেই পারত! এমনকি এই দুই দলের যে কোনো এক দল চ্যাম্পিয়ন হলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই। কিন্তু ফুটবল দেবী অনেক সময়ই হয়ে ওঠেন নিষ্ঠুর! কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায়ঘণ্টা বাজবে একটি দলের।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে এ সময়ে বিশ্ব ফুটবলের দুই সাড়া জাগানো দল লামিন ইয়ামালের স্পেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সোমাবার ডালাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে চলতি বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
এই ম্যাচেও আলাদাভাবে আলোচনায় ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এই বয়সেও তিনি অনন্য। বয়সের ভারে মাঠে সেই দাপুটে রোানালদোকে সেভাবে দেখা না গেলেও, বক্সে এখনও তিনি অদ্বিতীয়। সেই ক্ষীপ্র গতি ও গোলক্ষুধা আছে আগের মতোই। আর ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মশাল এখন মাত্র ১৮ বছরের সবে কৈশোর পেরুনো তরুণ ইয়ামালের হাতে। এই বিশ্বকাপে ঝলক দেখিয়েই চলেছেন এই স্প্যানিশ ফুটবল শিল্পী। দুই প্রজন্মের দুই ফুটবল নন্দনের লড়াই এই বিশ্বকাপের আবেদনকে দিচ্ছে উচ্চমাত্রা।
রোনালদো কতটা বিপজ্জনক সেটা খুব ভালোভাবেই জানে এ সময়ে বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম সফল স্পেন। এক বছর আগের ফাইনালেও তা টের পেয়েছিল স্পেন। দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচটি ছিল ৮ জুন, ২০২৫-এ উয়েফা নেশনস লিগে। ম্যাচে পর্তুগালকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন রোনালদো। ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ সমতায়। তার গোলেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর টাইব্রেকারে জয়ের আনন্দে ভেসেছিলেন রোনালদো।
আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে অবশ্য স্প্যানিশ সমর্থকদের ভরসা দিচ্ছেন দলটির তরুণ ফরোয়ার্ড ইয়ামাল। বলেছেন, স্পেন কোনো দলকেই ভয় পায় না এবং নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলে জয় তুলে নিতে প্রস্তুত। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তৈরি বলে জানিয়েছেন রোনালদোও। তার ভাষায়, ‘আমরা জানি, স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেভারিট। সামনে খুব কঠিন একটি ম্যাচ অপেক্ষা করছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা প্রস্তুত থাকব। আমরা ওদের খুব ভালো করেই চিনি। আমি ভালো অনুভব করছি, শারীরিকভাবেও পুরোপুরি ফিট আছি।’
এই দুই দলের হেড টু হেড পরিসংখ্যানে ৪১ বার মুখোমুখি হয়েছে। ঐতিহাসিক পাল্লা অবশ্য স্পেনেরই অনুকূলে, তারা জিতেছে ১৮টি ম্যাচে, অন্যদিকে পর্তুগাল জিতেছে ৭টি ম্যাচ এবং বাকি ১৬টির ফল ড্র।
দুই দলের মধ্যে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর, প্রীতি ম্যাচটিতে পর্তুগাল ৩-১ গোলে হারায় স্পেন। শুরুর বছরগুলোতে স্পেন প্রায় একচ্ছত্র কর্তৃত্ব করে। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে পর্তুগিজদের ৯-০ গোলে হারায় স্পেন। তবে আধুনিক যুগে দাপট দেখাচ্ছে পর্তুগাল। আর এর মূল কারিগর রোনালদো। তবে বড় নকআউট ম্যাচগুলোতে স্পেন আরও গভীর ছাপ রেখেছে। অবশ্য ২০১০ বিশ্বকাপে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পথে স্পেন পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারায়। ইউরো ২০১২-তে, ১২০ মিনিট খেলার পর দুই দল ০-০ গোলে ড্র করে এবং এরপর পেনাল্টি শুটআউটে জেতে স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দুই দল খেলা শেষ করে ৩-৩ সমতায়। রোনালদো শেষ মুহূর্তের একটি ফ্রি-কিকসহ হ্যাটট্রিক করে পর্তুগালের জন্য এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুদলের শেষ পাঁচ সাক্ষাতে, দল দুটি ৯০ মিনিটে ড্র করেছে চারবার। স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচের মেজাজ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেটা অনুধাবন করতে প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার।
স্পেনের খেলার ধরন স্থিতিশীল, তারুণ্য এবং পাসের ঝরনা বইয়ে দেওয়া, তারা বলের নিয়ন্ত্রণে রেখে ঝাঁঝালো আক্রমণের ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে, পর্তুগালের স্কোয়াডে গভীরতা, অভিজ্ঞতা এবং সর্বোপরি আছেন রোনালদো। এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম নকআউট পর্বের গোলটি করে মানসিকভাবে চনমনে আছেন এই গোলমেশিন।
আগের সেই চিতার গতি হারালেও রোনালদো এখনও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। জানান, ছয়-সাত বছর আগের সেই বিস্ফোরক গতি হয়তো রোনালদোর নেই। তবে বক্সের ভেতরে এখনো তার সহজাত ফিনিশিং দক্ষতা যেকোনো দলের জন্য বিপদের। তাই তাকে বক্স থেকে দূরে রাখাই হবে স্পেনের প্রধান লড়াই।
অধরা বিশ্বকাপের স্বাদ নিতে মরিয়া রোনালদো। স্পেন মুখিয়ে ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তির। শেষ ষোলোর মঞ্চ থেকে নিশ্চিতভাবেই যেকোনো একদলের স্বপ্ন যাবে গুঁড়িয়ে।
রোনালদো চাইবেন স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে, আর স্প্যানিশদের জন্য এটা প্রতিশোধ মিশন।
পর্তুগালের সম্ভাব্য একাদশ
কস্তা, ক্যানসেলো, ডায়াস, ভেইগা, মেন্ডেস, নেভেস, ভিতিনহা, নেটো, ফার্নান্দেস, লিও ও রোনালদো।
স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ
সিমন, পোরো, কিউবারসি, ল্যাপোর্টে, কুকুরেলা, রডরি, পেদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল ও বায়না।