প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
কআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। ছবি: ইপিএ
বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা হয়নি, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাও সম্ভব হয়নি। কিন্তু আয়তন বা জনসংখ্যায় ছোট হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে কেপ ভার্দে গোটা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে।
লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, আর্লিং হালান্ড কিংবা হ্যারি কেইনের আলো ছাপিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এই দলটি।
গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করে, এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে করে বিশ্বকাপের প্রথম গোল। টানা তিনটি ড্র নিয়ে তারা জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে, যেখানে অপেক্ষা করছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
মায়ামিতে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরু থেকেই দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে ব্লু শার্কসরা। লিওনেল মেসির গোলে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুতই সমতায় ফেরে তারা। অতিরিক্ত সময়ে আবারও পিছিয়ে পড়ার পর সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত গোলে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে সমতা আনে কেপ ভার্দে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের সঙ্গ দেয়নি। ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড ডিফেন্ডার ডিনি বোর্হেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে পড়লে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। তবে বিদায়ের বেদনাকে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে তাদের অসাধারণ লড়াই। বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে সাবেক স্কটল্যান্ড আন্তর্জাতিক জেমস ম্যাকফ্যাডেন বলেন, “কেপ ভার্দে ম্যাচে হেরেছে, কিন্তু মানুষের হৃদয় জিতেছে। এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় গল্পই কেপ ভার্দে”।
সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলও কেপ ভার্দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তার ভাষায়, “আন্ডারডগ কোনো দলের কাছ থেকে দেখা অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এটি। তারা বাড়ি ফিরতে চায় না, কারণ এমন মুহূর্ত হয়তো জীবনে আর কখনো আসবে না”।
হতাশার মাঝেও গর্ব লুকাননি কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। তিনি বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি ছোট দেশ হলেও বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা যায়। দেশের জন্য আমরা ইতিহাস গড়েছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দুইবার সমতায় ফেরা অবিশ্বাস্য একটি অর্জন”।
কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার রবার্তো ‘পিকো’ লোপেসের মতে, “এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করে না কেপ ভার্দে কোথায়। আমরা নিজেদের বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছি”।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে কেপ ভার্দের সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর কান্নাভেজা চোখে দেশের পতাকা হাতে তার ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন তিনি।
৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নন। তবে গ্যারি নেভিলের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সের পর খুব দ্রুতই ভালো কোনো ক্লাব তাকে দলে ভিড়াবে। তার ভাষায়, “ভোজিনিয়া অসাধারণ শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং নির্ভরযোগ্য। এই বিশ্বকাপের পর সে অবশ্যই একটি বড় সুযোগ পাবে”।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি সেভসহ এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৮টি সেভ করেছেন ভোজিনিয়া। এই পরিসংখ্যানে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল কুরাসাওয়ের এলোয় রুম (২০) এবং প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল (১৯)।