প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মরক্কোর আজ্জেদিন উনাহি সতীর্থদের সাথে তাদের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপন করছেন। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথমার্ধে চাপে থাকলেও বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মরক্কো।
বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের ফলে উত্তর আফ্রিকার দলটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন আজেদিন ওউনাহি।
আর যোগ করা সময়ে তৃতীয় গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রহিমি।
স্কোরলাইন একতরফা মনে হলেও ম্যাচের শুরুটা ছিল কানাডার দখলে।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা সহ-আয়োজকরা প্রথমার্ধজুড়ে মরক্কোকে চাপে রাখে এবং একাধিক সুযোগও তৈরি করে।
তবে দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।
অন্যদিকে ২৮ মিনিট পর্যন্ত গোলমুখে কোনো শটই নিতে পারেনি মরক্কো।
ভুল পাস ও ছন্দহীন খেলায় কোচ মোহাম্মদ ওউয়াহবি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর মধ্যেই হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে ২২তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন তিন গোল করা ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র।
বিরতির পাঁচ মিনিট পর দারুণ পরিকল্পিত এক ফ্রি-কিক থেকে আশরাফ হাকিমির নিচু পাস পেয়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন ওউনাহি।
এই গোলের পর কানাডার রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে থাকে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮২তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি।
যোগ করা সময়ে আরেকটি পাল্টা আক্রমণ থেকে রহিমি তৃতীয় গোল করে জয়ের পূর্ণতা দেন।
ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ ওউয়াহবি বলেন, প্রথমার্ধ কঠিন হলেও বিরতির পর তার দল দ্বিতীয় বলের দখল ও দ্বৈরথে অনেক ভালো খেলেছে।
একই সঙ্গে কানাডার লড়াকু মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি।
মিডফিল্ডার নিল এল আইনাউই জানান, প্রতিপক্ষের তীব্র প্রেসিংয়ে শুরুতে সমস্যায় পড়লেও দল কখনও হাল ছাড়েনি।
অন্যদিকে, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে চোটের সঙ্গে লড়াই করা কানাডার তারকা আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে মাঠে নামতে পারেননি।
কোচ জেসি মার্শের মতে, ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে শেষ তৃতীয়াংশে মরক্কোর কার্যকারিতা।
জোড়া গোল করে ওউনাহি ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে দুই গোল করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলারের কীর্তিও গড়েছেন।
আগামী ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের সঙ্গে।