কানাডা-মরক্কোর লড়াই
আজ টেক্সাসের হিউস্টনে এনআরজি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক কানাডা এবং গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। ছবি: ডাজন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চ শেষ। তা এবার এসে ঠেকেছে শেষ ১৬-এর রোমাঞ্চে। আজ টেক্সাসের হিউস্টনে এনআরজি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক কানাডা এবং গত আসরের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো।
নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে বিদায় করে দিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা মরক্কোর সামনে ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়তে মরিয়া কানাডা।
মাঠের লড়াই ও ফেভারিটের সমীকরণ
কাগজে-কলমে এবং সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে এই ম্যাচে ওয়ালিদ রেগ্রাগুইয়ের মরক্কোকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন ফুটবল পণ্ডিতরা। কাতার বিশ্বকাপের রূপকথা যে স্রেফ কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না, তা ডাচদের হারিয়ে আরও একবার প্রমাণ করেছে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা। আশরাফ হাকিমি, হাকিম জিয়েশ এবং গোলপোস্টের নিচে ইয়াসিন বোনোকে নিয়ে গড়া মরক্কো দলটির ভারসাম্য অসাধারণ।
তবে নিজ মহাদেশের গ্যালারি আর স্বদেশি দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারকে সঙ্গী করে মাঠে নামবে কানাডা। আলফোনসো ডেভিস ও জোনাথন ডেভিডের মতো তারকাদের গতি এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল যেকোনো পরাশক্তিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়া কানাডিয়ানদের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
হেড-টু-হেড পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এর আগে এই দুই দল ৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে মরক্কোর জয় ৩টি এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে; অর্থাৎ কানাডা এখন পর্যন্ত মরক্কোকে কখনও হারাতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, গত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মরক্কো। আজকের ম্যাচটি তাই কানাডার জন্য পুরনো হিসাব চুকানোর এবং মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার এক মোক্ষম মঞ্চ।
দুই দলের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা
মরক্কোর প্রধান শক্তি তাদের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন একতা এবং মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও তারা জমাট ডিফেন্স ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশল নেবে। তবে আক্রমণভাগে অতিরিক্ত সুযোগ নষ্ট করা তাদের কিছুটা ভোগাতে পারে।
পক্ষান্তরে কানাডিয়ানদের মূল অস্ত্র হলো উইং ধরে আলফোনসো ডেভিসের বিদ্যুৎ গতি এবং ট্রানজিশন ফুটবল। তবে নকআউট পর্বের মতো বড় ম্যাচের তীব্র স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতার অভাব মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রধান দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে।
মাঠের বাইরে কোচেদের মগজস্ত্র
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরক্কো কোচ মোহামেদ ওয়াহবি বেশ সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ‘কানাডাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। ডেভিসদের গতিকে আটকাতে আমাদের রক্ষণভাগকে শতভাগ প্রস্তুত থাকতে হবে।’
অন্যদিকে কানাডা শিবির সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইতিহাস বদলাতে মাঠে নামবে। ঘরের মাঠের দর্শকদের হতাশ না করে কঙ্গো বা মরক্কোর মতো আফ্রিকান পরাশক্তিকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নতুন অধ্যায় লিখতে চায় ‘দ্য রেডস’রা।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামের তপ্ত আবহাওয়া আর গ্যালারির উন্মাদনায় শেষ পর্যন্ত কারা হাসবে বিজয়ের হাসি? ৭ নম্বর ফিফা র্যাঙ্কিংধারী মরক্কো নাকি ৩০ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী কানাডা তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব।