সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনডোয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন, এ সময় হতাশা নিয়ে গোলবারের দিকে তাকিয়ে থাকেন আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। আলজেরিয়ার বিপক্ষে কৌশলগতভাবে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়ে ২-০ গোলের স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে মুরাত ইয়াকিনের দল।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের হয়ে প্রথমার্ধে ব্রিল এম্বোলো এবং দ্বিতীয়ার্ধে দান এনদোয়ে গোল করেন।
আগামী সপ্তাহে ভ্যাঙ্কুভারে শেষ ষোলোর ম্যাচে সুইসদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড।
পুরো ম্যাচে একাধিকবার ফরমেশন বদলে আলজেরিয়াকে বিভ্রান্ত করে তারা।
রক্ষণে শৃঙ্খলা বজায় রেখে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে, আর সেই কৌশল থেকেই আসে দুই গোল।
এই ম্যাচে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ আগে থেকেই সুইচ খেলোয়ারদের পরিচিত।তিনি ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাত বছর সুইজারল্যান্ডের দায়িত্বে ছিলেন।
তবে সাবেক কোচের বিপক্ষে ইয়াকিনের কৌশলই শেষ পর্যন্ত বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়।
ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। নিজেদের অর্ধ থেকে বল দখলের পর ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বি বাঁ প্রান্ত দিয়ে দ্রুত এগিয়ে বক্সে থাকা ব্রিল এম্বোলোর কাছে বল বাড়িয়ে দেন।
কাছ থেকে সহজ শটে জাল খুঁজে নিয়ে দলকে লিড এনে দেন এম্বোলো।
গোলের পর বলের দখল ছেড়ে দিয়েও মাঝমাঠে পাঁচজনের শক্তিশালী ব্লক গড়ে তোলে সুইজারল্যান্ড।
ফলে মাঝমাঠে জায়গা তৈরি করতে ব্যর্থ হয় আলজেরিয়া। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো কার্যকর কোনো পথও খুঁজে পায়নি তারা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইব্রাহিম মাজা কাছের পোস্টের বাইরে জোরালো শট নেন।
সেটিই ছিল বিরতির আগে আলজেরিয়ার হাতে গোনা কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সুযোগের একটি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে সুইজারল্যান্ড।
ডান দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে রাফিক বেলঘালির দুর্বল ক্লিয়ারেন্স গিয়ে পড়ে দান এনদোয়ের সামনে।
সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষক লুকা জিদানের নাগালের বাইরে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিলেন আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ।
তবে মাঝমাঠের কাছাকাছি থেকে নেওয়া তার শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
পুরো ম্যাচে আলজেরিয়ার নিষ্প্রভ আক্রমণের প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে সেই মুহূর্ত।
গ্রানিত জাকার নেতৃত্বে এরপর আবারও নিজেদের মূল কৌশলে ফিরে যায় সুইজারল্যান্ড।
বলের দখল প্রতিপক্ষকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণের ওপর ভরসা রাখে তারা।
তবে আলজেরিয়াও নিচ থেকে অতিরক্ত খেলোয়ার নিয়ে আক্রমণে ওঠার ঝুঁকি নেয়নি।
দর্শকে পূর্ণ বিসি প্লেস স্টেডিয়ামের শেষ ১৫ মিনিট তুলনামূলক শান্ত পরিবেশেই কেটে যায়।
এই সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফাবিয়ান রিডার খালি গোল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। তার শট গোলমুখের বাইরে চলে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।
শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে নেওয়ার আনন্দে মাঠ ছাড়ে ইয়াকিনের শিষ্যরা।