ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করার পর উদযাপন করছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: রয়টার্স
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের প্রথম গোল এবং যোগ করা সময়ে গনসালো রামোসের দুর্দান্ত হেডে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় অনুষ্ঠিত টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পরবর্তী পর্বে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পেয়েছে পর্তুগিজরা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখেছিল ক্রোয়েশিয়া। ১০৩তম মিনিটে জসকো গভার্দিওলের শট জালে জড়ালে তাদের শিবিরে উল্লাস শুরু হয়।
তবে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের পথে বলটি ইগর মাতানোভিচের গায়ে লেগেছিল।
এতে গভার্দিওল অফসাইড অবস্থানে চলে যান এবং গোলটি বাতিল করা হয়।
ভিএআরের সেই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকেরা।
এরপর টরন্টো স্টেডিয়ামের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থান করা দর্শকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঠে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন।
ম্যাচ শেষে জয়সূচক গোলদাতা গনসালো রামোস বলেন, “এটি ছিল খুব কঠিন একটি ম্যাচ। কারণ হারলেই আমাদের বিদায় নিতে হতো। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন চাপের ম্যাচই উপভোগ করি। বড় মঞ্চের বড় মুহূর্তে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই এবং প্রতিটি ম্যাচই এভাবেই খেলতে চাই।”
ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ বলেন, “এভাবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরিস্থিতি আমাদের প্রাপ্য ছিল না। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা খুবই কষ্টের। তবে এমন পরিস্থিতি আমরা আরও ভালোভাবে সামাল দিতে পারতাম।”
ম্যাচের ৫৩তম মিনিটে যোসিপ স্তানিশিচের বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নিখুঁত শটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিশিচ।
সেই গোলের পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের দারুণ রোমাঞ্চ উপহার দেয়।
৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
একই সঙ্গে এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।
এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করা সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের রেকর্ডও গড়েন।
৮১তম মিনিটে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন।
এরপর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা গনসালো রামোস ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত হেডে জয়সূচক গোল করেন।
শেষ পর্যন্ত সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল এবং জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়।