প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
একসময় ফুটবল দুনিয়ায় জার্মানিকে বলা হতো মানসিক দৃঢ়তার আরেক নাম। চাপ, উত্তেজনা কিংবা মৃত্যুঘণ্টা যত কঠিন মুহূর্তই আসুক জার্মানির ফুটবল দল যেন শেষ পর্যন্ত মাথা ঠান্ডা রাখার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রাখত। পেনাল্টি শুটআউট? সেটি তো বহু বছর ধরে ছিল জার্মানদের বিশেষত্ব; যেখানে স্নায়ুযুদ্ধের শেষ হাসি প্রায়ই তাদের মুখেই ফুটত। কিন্তু সময় কখনও কখনও সবচেয়ে শক্ত ইস্পাতেও ফাটল ধরায়।
প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। পরাজয়টাই শুধু বড় খবর নয়; আরও বড় খবর লুকিয়ে ছিল পর্দার আড়ালে। কারণ এই হার কেবল স্কোরলাইনের ব্যর্থতা নয় এটি সাহস, নেতৃত্ব এবং আত্মবিশ্বাসের সংকটের নগ্ন প্রকাশ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম টাইব্রেকারে হারল জার্মানি। যে দলকে একসময় পেনাল্টি শুটআউটের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট মনে করা হতো, সেই দলই এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভেঙে পড়ল। জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড প্রকাশ করেছে বিস্ময়কর এক তথ্য, যা জার্মান ফুটবলের বর্তমান মানসিক অবস্থাকে স্পষ্ট করে দেয়।
টাইব্রেকারের জন্য প্রথম পাঁচ শট কে কে নেবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু খেলা যে ষষ্ঠ শট পর্যন্ত গড়াবে, সেই সম্ভাবনা নাকি দল খুব একটা ভাবেনি। আর সেখানেই শুরু হয় অস্বস্তিকর নাটক।
ষষ্ঠ শট নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয় লিওন গোরেৎজকা, ওয়ালডেমার অ্যান্টন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াউকে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, চারজনের কেউই শট নিতে রাজি হননি। এই চারজনের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর নাম গোরেৎজকা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার, দেশের হয়ে ৭০-এর বেশি ম্যাচ খেলা একজন সিনিয়র খেলোয়াড়। অধিনায়ক জোসুয়া কিমিচ ব্যক্তিগতভাবে তাকে দুবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও তিনি সাহস করেননি। সেই মুহূর্তে জার্মানির বেঞ্চে শুধু নীরবতা নয়, যেন ছড়িয়ে পড়ে ভয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দায়িত্ব নিতে হয় জোনাথন তাহকে।
সমস্যা হলো তাহ তার পেশাদার ক্যারিয়ারে কখনও পেনাল্টি নেননি। না ম্যাচ চলাকালে, না শুটআউটে। দায়িত্বের ভার তার কাঁধে পড়েছিল প্রস্তুতি ছাড়া, মানসিক প্রস্তুতি তো আরও নয়। তাহ বল বারের ওপর বাইরে পাঠিয়ে দেন।
একটি শট শুধু পোস্ট মিস করেনি, মিস করেছে জার্মানির আত্মবিশ্বাস, তাদের পুরনো পরিচয়, তাদের অদম্য মানসিকতার কিংবদন্তিও। পরের শটে হোসে ক্যানালে নির্ভুল ফিনিশে গোল করে প্যারাগুয়েকে ইতিহাসগড়া জয় এনে দেন।