লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: ডেইলি সাবাহ
বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় কখনও কখনও এমন কিছু লড়াই জন্ম নেয়, যা দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত মহাকাব্য। সেসব দ্বৈরথ কেবল ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; তা হয়ে ওঠে সময়ের বিরুদ্ধে সময়ের যুদ্ধ, প্রজন্মের বিরুদ্ধে প্রজন্মের সংঘর্ষ, উত্তরাধিকারের বিরুদ্ধে উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঘোষণা। এবারের বিশ্বকাপে ঠিক তেমনই এক গল্প লেখা চলছে। গল্পের দুই কেন্দ্রীয় চরিত্র লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে।
প্রথমজন ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত মহাকাব্য। অন্যজন আগামী যুগের সম্ভাব্য সম্রাট। কিন্তু এই মুহূর্তে দুজনের দৃষ্টি একই লক্ষ্যে স্থির দলকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন দখল।
বয়সের হিসাব অনেককে ধীর করে দেয়। কিন্তু মেসি যেন বয়সের নিয়মকে নতুন করে লিখছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে ছয় গোল করেছেন তিনি। এক ম্যাচে হ্যাটট্রিক। আরেক ম্যাচে জোড়া গোল। অন্য ম্যাচে এক গোল। এই ছয় গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯।
অন্যদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপেও দুর্দান্ত ছন্দে। চার ম্যাচে ছয় গোল। তিনটি ম্যাচে জোড়া গোল। এই ছয় গোল তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপে ১৮ গোলের মাইলফলকে। মেসির চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন তিনি। তবে গোলসংখ্যায় ওলটপালট হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ এখনও রয়েছে। মেসি অন্তত আরও এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে তার দল কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। কিলিয়ান এমবাপে শেষ বত্রিশের লড়াই শেষ করেছেন। সে লড়াই পাস করে পৌঁছেছেন শেষ ষোলোতে। ফলে তিনিও কমপক্ষে আরও এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলবে তার দল। নিজ নিজ ম্যাচে জয় পেলে নিজেদের কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ আসবে তাদের সামনে। দুইজনের লড়াই তখন হতে পারে আরও জমজমাট।