বাঁচা-মরার ম্যাচ
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। ছবি: সফট ফুটবল
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ। এখন শুরু ফুটবলের আসল লড়াই-নকআউটের নির্মম মঞ্চ, যেখানে একটি ভুলই স্বপ্নভঙ্গের কারণ হতে পারে।
মঙ্গলবার ডালাসের আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামে সেই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। দুই দলের লক্ষ্য একটাইÑ শেষ ষোলোর পথে এগিয়ে যাওয়া।
আইভরি কোস্টের জন্য এই ম্যাচ শুধু আরেকটি নকআউট লড়াই নয়; এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। কোচ ইমার্সে ফে’র অধীনে ‘দ্য এলিফ্যান্টস’ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। তাতেই সন্তুষ্ট নয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তাদের চোখ এখন আরও বড় স্বপ্নে-ইতিহাস লিখে যাওয়া।
গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্ট দেখিয়েছে দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা আর সাহস। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুরুটা ছিল আত্মবিশ্বাসী। দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির বিপক্ষে হারলেও লড়াই করেছে সমানে সমান। ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয়েছে।
শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের নবাগত কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে তারা। নিকোলাস পেপের জোড়া গোল প্রমাণ করেছে, আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে নিজেদের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে বদ্ধপরিকর। কোচ স্টেল সলবাকেনের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের আক্রমণের প্রাণভোমরা এই গোলমেশিন ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষের আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। গ্রুপ পর্বে চার গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারদের একজন বলা হয়। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল, সেনেগালের বিপক্ষেও জোড়া গোলÑ মাত্র দুই ম্যাচেই নিজের প্রভাব স্পষ্ট করেছেন। তৃতীয় ম্যাচে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। আর সেখানে ম্যাচেই নরওয়ের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল হালান্ডের এই পরিসংখ্যানই তার অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ।
এই ম্যাচের বড় লড়াই হতে পারে মাঝমাঠে। মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং স্যান্ডার বার্জের শারীরিক উপস্থিতি নরওয়ের জন্য বড় সম্পদ। বিপরীতে আইভরি কোস্ট চাইবে দ্রুত ট্রানজিশন আর উইং ব্যবহার করে নরওয়ের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে। চোটও ম্যাচের আগে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার উইলফ্রাইড সিঙ্গোর খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ের রাইট-ব্যাক হুলিয়ান রেয়ারসন পুরোপুরি ফিট নন।
দুই দল অতীতে কখনও মুখোমুখি হয়নিÑ না প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে, না প্রীতি ম্যাচে। ফলে একে অপরকে পড়া কঠিন। তাই নরওয়ের কোচ সোলবাকেনও সতর্ক।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চাবিকাঠি যেন এক নামেই এসে ঠেকে-হালান্ড। তাকে থামাতে না পারলে আইভরি কোস্টের স্বপ্ন দ্রুতই থেমে যেতে পারে। কিন্তু যদি আফ্রিকান দলটি তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে সময় লাগবে না। বিশ্বকাপের নকআউটে একটি মুহূর্তই তো ইতিহাস বদলে দিতে পারে।
নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেন, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছি। আমরা নতুন ইতিহাস লিখতে চাই। দলে হালান্ড আছে। যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে জিততে হলে পুরো দলকে দায়িত্ব নিতে হবে।
আইভরি কোস্টের অধিনায়কের ফ্রাঙ্ক কেসির ভাষ্য এমনÑ এটি শুধু নকআউটের একটি ম্যাচ নয়। পুরো দেশের স্বপ্নের প্রতিনিধিত্ব করছে। খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে আসতে পারে।