কলম্বিয়ান সমর্থক। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার অনেক আগেই মেক্সিকো সিটির রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ এবং জনসমাগমস্থলগুলো যেন হলুদের সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। হাজার হাজার কলম্বিয়ান সমর্থকের উপস্থিতিতে মেক্সিকোর রাজধানী এক দিনের জন্য যেন রূপ নেয় দক্ষিণ আমেরিকার প্রাণবন্ত এক শহরে।
গ্রুপ ‘কে’-তে
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন
প্রান্তে জড়ো হয়। ঐতিহ্যবাহী কলম্বিয়ান খাবার-বানদেহা পাইসা, সসেজ, ডিম, বিনস এবং জনপ্রিয়
এম্পানাদা উপভোগ করতে করতেই তারা গানে-স্লোগানে উজ্জীবিত করে তোলেন পুরো পরিবেশ। সেই
উৎসবমুখর আবহের পরিণতিই যেন দেখা যায় মাঠে, যেখানে কলম্বিয়া ৩-১ গোলের দারুণ জয় তুলে
নেয়।
রোমা এলাকার জনপ্রিয় লাতিন আমেরিকান ফুড হল কোমেডর ডি লস মিলাগ্রোস-এ ম্যাচের আগে উন্মাদনা পৌঁছে যায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সেখানে উপস্থিত হন জনপ্রিয় কলম্বিয়ান শিল্পী কার্লোস ভিভেস। তাকে দেখে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সমর্থকরা। অনেকেই এটিকে শুভ লক্ষণ হিসেবেও দেখেছিলেন।
রঙিন দেয়ালচিত্র,
লাতিন সংস্কৃতির আবহ এবং ধর্মীয় শিল্পকর্মে সাজানো স্থানটি সেদিন যেন কলম্বিয়ান সমর্থকদের
অস্থায়ী ক্লাবঘরে পরিণত হয়েছিল। মেদেইন থেকে ভাইয়ের সঙ্গে খেলা দেখতে আসা পবালো কালডেরন
বলেন, ‘মেক্সিকো ফুটবলপ্রেমী দেশ, তবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রেও যাব। পুরো গ্রুপ পর্বে দলের
সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু খরচ অনেক বেশি। শুধু টিকিটের দামই প্রায় এক হাজার ডলার।’
তার ভাই রিকার্ডো
কালডেরন মনে করেন, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর মধ্যে সাংস্কৃতিক মিলই তাদের এখানে স্বাচ্ছন্দ্য
দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ফুটবল, সংগীত, খাবার আর উৎসব ভালোবাসি। মেক্সিকানদের সঙ্গেও
এই মিল রয়েছে, তাই এখানে নিজেদের আপন মনে হয়।’
ম্যাচ শুরু হলে
সেই আবহ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক আজতেক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কলম্বিয়ার হলুদ
জার্সিধারী সমর্থকরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে স্টেডিয়ামটি অনেকটা কলম্বিয়ার ঘরের মাঠের
অনুভূতি দেয়।
শুধু স্টেডিয়াম
নয়, শহরের কলম্বিয়ান রেস্তোরাঁগুলোর ব্যবসাও জমে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয়
সালচিপার্সির ব্যবস্থাপক আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আগের দিন থেকে উদ্যাপন শুরু হওয়ার পর অনেক
কলম্বিয়ান এখানে এসেছেন। শুধু কলম্বিয়ান নন, মেক্সিকানরাও এসেছেন। আমরা চাই তারা যেন
নিজেদের বাড়ির মতো অনুভব করেনÑ বড় প্লেটভর্তি খাবার আর খাঁটি কলম্বিয়ান বিয়ারের স্বাদ
নিয়ে।’