ক্রোয়েশিয়া বিপক্ষে গোল করে হ্যারি কেইনের উদ্যাপন। ছবি: এএস ইউএসএ
ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিল ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ছয় গোলের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে দারুণ এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ইংল্যান্ড। বলের দখলে সামান্য
এগিয়ে থাকা ইংলিশরা গোলের উদ্দেশ্যে ২২টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। জোড়া গোল করে
ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইন ব্যক্তিগতভাবেও গড়েছেন অনন্য এক কীর্তি।
তিনি বিশ্বকাপের তিন ভিন্ন আসরে ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালে গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ইংলিশ
ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান ইতিহাসে। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু ডেভিড বেকহ্যামের।
এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য ছিল প্রতিশোধেরও। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে
ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল থ্রি লায়নদের। আট বছর পর বিশ্বকাপের
মঞ্চেই সেই হতাশার জবাব দিলেন কেইনরা।
ম্যাচের ১২ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে
নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করেন লুকা মদরিচ। প্রথম পেনাল্টি শটটি ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার
গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, শট নেওয়ার আগেই তিনি গোললাইন
ছেড়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। পুনরায় নেওয়া পেনাল্টিতে আর ভুল করেননি কেইন। নিখুঁত শটে ইংল্যান্ডকে
এগিয়ে দেন তিনি।
তবে পিছিয়ে পড়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৩৬ মিনিটে পিটার সুচিচের
পাস থেকে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান মার্টিন বাতুরিনা। কিন্তু ছয় মিনিট পরই
আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেডে জাল খুঁজে নেন
কেইন। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার ৮১তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের দশম গোল করে
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের রেকর্ডও স্পর্শ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও সমতায় ফেরে ক্রোটরা। ইভান পেরিসিচের হেড পাস থেকে পিটার মুসা গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। বিরতির পর বদলে যাওয়া এক ইংল্যান্ডকে দেখা যায় মাঠে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জুড বেলিংহামের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আসে তৃতীয় গোল। ৪৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে দারুণ কোনাকুনি শটে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন তরুণ এই মিডফিল্ডার। গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র্যাশফোর্ড। ডানদিক থেকে বুকায়ো সাকার পাস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৪-২ করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে
দলের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। তবে বিরতিতে কোচের অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যই
দলকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
কেইন বলেন, ‘ম্যাচটা দুই অর্ধে দুই রকম ছিল। প্রথমার্ধে আমরা ভালো
খেললেও সহজে গোল হজম করেছি। বিরতিতে কোচ আমাদের বলেছিলেন, হারলেও যেন নিজেদের স্বাভাবিক
খেলাটা খেলি। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সেটাই করেছি। পুরো শক্তি দিয়ে খেলেছি এবং ক্রোয়েশিয়া
আমাদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।’
দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল ইংল্যান্ড। আর ডালাসের স্মরণীয়
রাতে জোড়া গোল করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন হ্যারি কেইন।