আর্লিং হালান্ড। ছবি: সংগৃহীত
আর্লিং হালান্ডের জন্য কোনো মঞ্চই যে অতিরিক্ত বড় নয়, সেটা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চ এখন তার প্রমাণের অপেক্ষায়।
রেড বুল সালজবুর্গের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিষেকে হ্যাটট্রিক, বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে বুন্দেসলিগা অভিষেকে হ্যাটট্রিক, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ অভিষেকে জোড়া গোল আর এবার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নরওয়েকে ৪-১ ব্যবধানে ইরাকের বিপক্ষে জয় এনে দিলেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ছয় দিন আগে। কিন্তু মঙ্গলবার যেন সত্যিকার
অর্থেই আসরের প্রাণ জেগে উঠল। প্রথমে কিলিয়ান এমবাপে দুই অসাধারণ গোলে সেনেগালকে ৩-১
ব্যবধানে হারিয়ে ফ্রান্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন এবং একই সঙ্গে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ
গোলদাতা হন। এর একটু পরই নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন হালান্ড। এমবাপের
ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ যেন সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণ করেন তিনি। প্রায় দেড় বছর বয়সে ছোট নরওয়েজিয়ান
এই তারকা গোলের পাশাপাশি অদম্য ক্ষুধা, পরিশ্রম এবং জয়ের আকাঙ্ক্ষায় ভরপুর এক পারফরম্যান্স
উপহার দেন।
ম্যাচ শেষে নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাক্কেন বলেন, ‘আপনি দেখতেই পাচ্ছেন,
সে উপলক্ষের মর্যাদা রেখেছে। এই মঞ্চ তার জন্য মোটেও বড় ছিল না। ম্যাচের আগে থেকেই
আমার ভালো অনুভূতি ছিল। শেষ অনুশীলন সেশনটাও দারুণ হয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আজ সে আমাদের
জন্য কিছু একটা করবেই।’
ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও হালান্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে সত্যিই অসাধারণ একজন নাম্বার নাইন। ম্যাচের অনেকটা সময় আমরা তাকে ভালোভাবেই
সামলেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে তো বিশ্বমানের স্ট্রাইকার। নরওয়ের এই দলটি অনেককেই
চমকে দিতে পারে। তারা এই টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে সক্ষম।’
ম্যাচ শেষে হালান্ডের সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে আর্নল্ড বলেন,
‘আমি তাকে শুধু বলেছি, তুমি আমার দেখা সেরা নাম্বার নাইনদের একজন। সে অবিশ্বাস্য রকম
শক্তিশালী, দ্রুতগতির এবং গোলমুখে ভীষণ প্রাণঘাতী।’
প্রথমার্ধে মাঠের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় হালান্ডের বলস্পর্শ
ছিল সবচেয়ে কম মাত্র ১১ বার। কিন্তু তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ম্যাচের প্রায় আধাঘণ্টা
পূর্ণ হওয়ার আগে ডেভিড মোলার উলফের বাঁদিক থেকে ভাসিয়ে দেওয়া চমৎকার ক্রসে ঝাঁপিয়ে
পড়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এটি ছিল বিশ্বকাপের মূলপর্বে নরওয়ের ১০ হাজার ২২০ দিন পর প্রথম গোল।
তাদের সর্বশেষ গোলটি এসেছিল ১৯৯৮ সালে হালান্ডের
জন্মেরও ৭৫৯ দিন আগে।
বিবিসি ওয়ানের সহধারাভাষ্যকার স্টিফেন ওয়ার্নক বলেন, ‘হালান্ডকে নিয়ে
একটি বিষয় নিশ্চিত, সে বল খুঁজে নেবে, গোলের সুযোগে পৌঁছাতে যা করার দরকার সবই করবে।
তার মানের খেলোয়াড়ের জন্য এটি ছিল সহজ সমাপ্তি। সত্যি বলতে, গোলটি তারই করা উচিত ছিল।’