কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: আল জাজিরা
কিলিয়ান এমবাপে যে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজনÑ এ নিয়ে কোনো সংশয় থেকেও থাকে, তা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচেই পুরোপুরি দূর হয়ে গেল।সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-১ গোলের জয়ে দুটি গোল তার। জোড়া গোলের সুবাদে ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়ে সর্বাধিক গোলের মালিক এখন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।
মঙ্গলবার তিনি
ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। ৫৮তম আন্তর্জাতিক গোল করে তিনি ছাড়িয়ে
যান সাবেক তারকা অলিভিয়ে জিরুদকে। ঘটনাচক্রে জিরুদই সেনেগাল ম্যাচে ধারাভাষ্যকার হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছিলেন। ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে এমবাপে দ্বিতীয় গোল করার পর সরাসরি সম্প্রচারে
তাকে অভিনন্দন জানান জিরুদ।
এমবাপে একই সঙ্গে
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে যান। তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা
এখন ১৪। ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছেন। ফন্টেইনের
সবগুলো গোলই এসেছিল ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে। এ ছাড়া বিশ্বকাপে ১৪ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো
সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়ও এখন এমবাপে।
২০২৬ বিশ্বকাপে
নিজের প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে। মাইকেল অলিসের দারুণ পাস থেকে বক্সের
ভেতরে দ্রুত ছুটে গিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধে কিছুটা ছন্দহীন থাকা ফ্রান্স
বিরতির পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। এরপর বদলি হিসেবে নামা প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের
ব্র্যাডলি বারকোলা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এমবাপে ম্যাচের
৯৬তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে ফ্রান্সের
জয় নিশ্চিত করেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপের সাফল্য নতুন কিছু নয়। মাত্র ১৯ বছর
বয়সে রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮-তে ফ্রান্সকে শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন তিনি।
সেই আসরে পেরুর
বিপক্ষে করা তার একমাত্র গোলটি তাকে বিশ্বকাপে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফরাসি খেলোয়াড়ে পরিণত
করে। একই সঙ্গে পেলের পর দ্বিতীয় কিশোর হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কৃতিত্বও
অর্জন করেন তিনি। ওই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ফিফার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার
জেতেন এবং ফ্রান্সের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।