নিজেদের ঘরের মাছে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারার স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপ ‘এ’ এর ভাগ্য নির্ধারণী লড়াই। উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ জয় পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসী মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হচ্ছে গ্রুপের শীর্ষস্থান এককভাবে নিজেদের করে নেওয়ার লক্ষ্যে।
স্বাগতিক মেক্সিকো নিজেদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে সঙ্গী করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া চেকিয়ার বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে তুলে নিয়েছে নিজেদের প্রথম জয়। ফলে এই ম্যাচে জয়ী দল নকআউট পর্বের পথে বড় সুবিধা পেয়ে যাবে, আর পরাজিত দলকে পড়তে হবে কঠিন সমীকরণে।
ইতিহাস অবশ্য কিছুটা এগিয়ে রাখছে মেক্সিকোকেই। দুই দলের এখন পর্যন্ত ১৪ দেখায় মেক্সিকো জয় পেয়েছে ৮টিতে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্য ৪ ম্যাচে। আর বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চেও দুইবার মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় মেক্সিকো ৩-১ গোলের জয় পায়। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে আবারও জয়ী হয় উত্তর আমেরিকার প্রতিনিধিরা। সেবার স্কোরলাইন ছিল ২-১। ফলে বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে মেক্সিকো।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও আশাবাদী করে তুলছে স্বাগতিকদের। মেক্সিকো নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকে চারটিতে জয় ও একটিতে ড্র করেছে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি জয় পেলেও দুটি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। তবে চেকিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ার কারণে কোরিয়ানরা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভুগছে না।
অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগিরের অধীনে মেক্সিকো এবারও নিজেদের আক্রমণাত্মক ও গতিময় ফুটবল ধরে রাখতে চাইবে। উদ্বোধনী ম্যাচে গোল করা হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেসকে ঘিরেই সাজানো হবে আক্রমণভাগ। বলের দখল ধরে রাখা, উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ঘরের মাঠের বাড়তি সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইবে এল ত্রি।
অন্যদিকে হং মিয়ং-বোর দক্ষিণ কোরিয়া দল পরিচিত তাদের সংগঠিত রক্ষণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ কৌশলের জন্য। হোয়াং ইন-বমের সৃজনশীলতা এবং অধিনায়ক সন হিউং-মিনের আক্রমণভাগে ধারাবাহিক উপস্থিতি কোরিয়ানদের সবচেয়ে বড় শক্তি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা দিয়ে তারা স্বাগতিকদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে ম্যাচের আগে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে মেক্সিকো। উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সেসার মন্তেস এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তার পরিবর্তে এদসন আলভারেসকে রক্ষণভাগে দেখা যেতে পারে। আলভারেসের সঙ্গে সেন্টার-ব্যাকে থাকবেন ইয়োহান ভাসকেস। মাঝমাঠে ১৭ বছর বয়সী প্রতিভাবান গিলবের্তো মোরাকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। গোলপোস্টের নিচে থাকবেন হোসে রাঙ্গেল, আর আক্রমণের দুই প্রান্তে খেলবেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রোবের্তো আলভারাদো। প্রথম ম্যাচে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও কিনিয়োনেসের খেলতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
দক্ষিণ কোরিয়া শিবিরেও রয়েছে কিছু স্বস্তির খবর। চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর চোটের শঙ্কায় থাকা কিম তে-হিয়ন ও বে জুন-হো অনুশীলনে ফিরেছেন এবং এই ম্যাচে তাদের দেখা যেতে পারে। কোচ হং মিয়ং-বো সফল ৩-৪-২-১ ফরমেশনেই আস্থা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোলবার সামলাবেন কিম সিউং-গ্যু, আর রক্ষণভাগের নেতৃত্বে থাকবেন ইউরোপিয়ান ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত ডিফেন্ডার কিম মিন-জে।
কোরিয়ান আক্রমণের মূল ভরসা সন হিউং-মিন। তার ঠিক পেছনে খেলবেন লি জে-সুং ও লি কাং-ইন। সৃজনশীলতা, গতি ও ফিনিশিং দক্ষতার সমন্বয়ে এই ত্রয়ী যেকোনো রক্ষণভাগকে বিপাকে ফেলতে সক্ষম। মাঝমাঠে ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব থাকবে হোয়াং ইন-বমের কাঁধে, যিনি প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সমতাসূচক গোল করে দলের প্রত্যাবর্তনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন।