বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ
টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি নিয়ে ফটোশুট করলেন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। ছবি : বিসিবি
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি আজ চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে। ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর সংক্ষিপ্ত সংস্করণেও ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে লিটন দাসের দল। সফরকারী অস্ট্রেলিয়াও ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশায়।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত দুই দল ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে।
এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছে, আর বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি ম্যাচে। পরিসংখ্যানে
এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মরণীয় সাফল্য রয়েছে ২০২১ সালের ঘরের
মাঠের সিরিজে, সেবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বে টাইগাররা ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে
ইতিহাস গড়েছিল।
তবে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনও জয় পায়নি বাংলাদেশ।
সবগুলো ম্যাচেই অজিদের দাপট ছিল স্পষ্ট। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি লড়াই হয়েছিল ২০২৪ সালের
বিশ্বকাপে, যেখানে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে
হারায় অস্ট্রেলিয়া।
তবে লিটন বাহিনী দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সবশেষ নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে ১-১ সিরিজ ড্র করেছে। এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে
বাংলাদেশ। এর আগের সিরিজগুলোতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে টাইগাররা। তবে নিরাপত্তার ইস্যুতে
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস জানিয়েছেন, ‘এবার দল নামছে পূর্ণশক্তি নিয়ে। ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকা তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারদের ফেরায় বোলিং আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।’
এ ছাড়া লিটন বলেন, ‘আগের সিরিজে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ছিল না। এবার পুরো শক্তির দল নিয়েই আমরা যাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস টি-টোয়েন্টিতেও সহায়ক হবে, তবে ফরম্যাট ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি ম্যাচেই নতুনভাবে শুরু করতে হবে। ‘নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে, তারাই জিতবে,’ বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলের ব্যাটিং বিভাগ নিয়ে লিটন কিছুটা উন্নতির জায়গা দেখছেন। বিশেষ করে, লোয়ার মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স চান তিনি। তার মতে, শেষ দিকে রান বাড়াতে পারলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ফলাফল আরও ভালো করা সম্ভব।’ একাদশ নিয়ে লিটন জানান, উইকেটের আচরণ এবং প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্পিন বিভাগে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও সাকলাইন সজিবের মধ্যে থেকে ম্যাচভেদে সমন্বয় করা হবে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সফর
সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং এবং এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ওয়ানডে সিরিজে হারের পর টি-টোয়েন্টিতে
ঘুরে দাঁড়াতে চায় অজিরা। মার্শ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অভিজ্ঞ
ও তরুণদের মিশেলে আমরা সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। তবে এটা আমাদের জন্য কঠিন
সফর।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন অনেক উন্নত এবং এটি যেকোনো
দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মোস্তাফিজ, তাসকিন ও শরিফুলকে নিয়ে
সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি। চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘এটা
আমার জন্য নতুন মাঠ। উইকেট ভালো মনে হচ্ছে, ঘাস আছে। ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ
আশা করছি।’
অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারে টিম ডেভিডের গুরুত্বও তুলে ধরেন মার্শ।
তার মতে, ডেভিড দলে থাকলে ব্যাটিং ইউনিট আরও শক্তিশালী হয় এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে
পারে। সব মিলিয়ে দুই দলের লক্ষ্য এক হলেও পথ কঠিন। বাংলাদেশ ঘরের মাঠের সুবিধা ও সাম্প্রতিক
আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে চায়, আর অস্ট্রেলিয়া চাইছে হারানো গতি ফিরে পেতে। পরিসংখ্যান
অজিদের পক্ষে থাকলেও বর্তমান ফর্ম এবং পরিবেশ বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।’