প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৪ ঘণ্টা আগে
সিরিজ জয়টা আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া পেল শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মিরপুর সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে অসাধারণ নাটকীয়তার জন্ম দিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। শেষ কয়েক ওভারের নাটকীয়তার পর ১ উইকেটের জয় পেয়েছে অজিরা। একইসঙ্গে হোয়াইওয়াশ হওয়া এড়িয়েছে জশ ইংলিসের দল।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত লড়াই ম্যাচটিকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অ্যাডাম জাম্পার ব্যাট থেকে আসা একটি চারেই ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা। তবে সিরিজটি আগেই নিশ্চিত করে রেখেছিল বাংলাদেশ।
এদিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়া। কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস দ্রুত রান তুলতে থাকেন। যদিও শরিফুল ইসলাম নিজের প্রথম ওভারেই ইংলিস ও ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান।
এরপর সৌম্য সরকারের অবিশ্বাস্য এক হাতে নেওয়া ক্যাচে ফিরে যান অ্যালেক্স ক্যারি। কিন্তু কনোলি ও মার্নাস লাবুশেনের জুটি আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
কুপার কনোলি দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস খেলেন। তিনি ১৪৯ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান। তার সেঞ্চুরির পর অস্ট্রেলিয়ার জয় অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল।
ম্যাচের শেষ ভাগে শরিফুল ইসলাম অসাধারণ বোলিং বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে চাপ তৈরি করেন শরীফুল। ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এবং বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে পঞ্চম সেরা বোলিং ফিগার।
শরীফুলের আগুনে বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহজ ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভার পর্যন্ত। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩ রান, বাংলাদেশের দরকার ১ উইকেট। প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক দেন রাইলি মেরেডিথ। দ্বিতীয় বলে অ্যাডাম জাম্পাকে ডট বল দেন তাসকিন আহমেদ।
তৃতীয় বলে জাম্পা কভার দিয়ে চার মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন। এর ঠিক আগে মোস্তাফিজুর রহমান কনোলিকে ১৪৯ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশের আশা জাগিয়েছিলেন। এমনকি শরীফুলের বলে জাম্পার সহজ ক্যাচও ফেলেন তানজিদ তামিম।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের গুরুত্বপূর্ণ ঘুরে দাঁড়ায় দল। শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেনও কার্যকর অর্ধশতক করে দলের সংগ্রহ বাড়ান। হৃদয়, লিটন ও মোসাদ্দেক তিনজনই ফিফটি তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি এনে দেন।
যদিও সিরিজ জয়টা আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া পেল শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়। ম্যাচসেরা হয়েছেন কলোনি।