প্রথম ম্যাচের পর রবিবার সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফটি তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৫ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সিরিজ জিতে নিয়েছে, তাই আজকে তাদের লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ। আর অজিদের অক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানো।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ চোটের কারণে একাদশের বাইরে থাকায় নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল শান্তর কাঁধে।
তবে শুরুটা ছিল হতাশার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ফলে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় স্বাগতিকরা।
সৌম্যর বিদায়ের পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজন মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। তবে ম্যাথু রেনশোর স্পিনে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ২০ বলে ১৯ রান করে ক্যাচ দেন তানজিদ। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্তও। একই ধরনের শটে নিজের স্ট্যাম্প ভেঙে ৫০ বলে ২৪ রান করে বিদায় নেন তিনি।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই অবস্থায় ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। শুরুতে সতর্ক ব্যাটিং করলেও ধীরে ধীরে রান তোলার গতি বাড়ান দুজনই। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৯২ রান।
বিশেষ করে লিটন দাস ছিলেন দারুণ ছন্দে। দীর্ঘদিন পর ওয়ানডেতে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং উপহার দিচ্ছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। তবে ফিফটির খুব কাছে গিয়ে থেমে যেতে হয় তাকে। তীব্র গরমের মধ্যে পায়ের পেশিতে টান পড়ায় ৭৩ বলে ৪৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
ততক্ষণ পর্যন্ত মিরপুরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৮ ইনিংস খেলেও কোনো ফিফটির দেখা পাননি লিটন। আজও সেই আক্ষেপই সঙ্গী হতো তার। এর আগে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সিরিজেও কয়েকটি চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেও অর্ধশতক ছোঁয়া হয়নি তার।
লিটনের বিদায়ের পর উইকেটে এসে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নেন মোসাদ্দেক হোসেন। অন্য প্রান্তে হৃদয় নিজের ইনিংসকে বড় করার দিকে মনোযোগ দেন। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৮৩ বলে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের রানকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান।
এই জুটির মাঝেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পূর্ণ করেন তাওহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি তার প্রথম অর্ধশতক। ইনিংসের শেষদিকে রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ৮৮ বলে ৮৩ রান করে আউট হন তিনি।
অন্যদিকে চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করে চলেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। প্রথম ম্যাচের পর সিরিজে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফটি তুলে নেন তিনি। মাত্র ৪৩ বলে পূরণ করেন অর্ধশতক। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি।
মোসাদ্দেকের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাঝেই ৯ বলে ৩ রান করে আউট হন সদ্য মাঠে আসা শেখ মেহেদী হাসান। প্রায় আড়াই বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি।
ইনিংসের শেষভাগে আবারও মাঠে ফিরে আসেন লিটন দাস। চোট নিয়েও দলের জন্য রান করার চেষ্টা করেন তিনি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রান যোগ করেন। তুলে নেন মিরপুরের প্রথম ফিফটি।