২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পানির বোতল নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। ছবি: ডেকান ক্রনিকল
টাকা কামানোর ফন্দি নাকি নিরাপত্তা রক্ষা? ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে পানির বোতল নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। তবে সমর্থক গোষ্ঠী ও শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফিফা। গ্যালারিতে বোতল নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রে নতুন এক নির্দেশিকার কথা জানিয়েছে তারা।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক জরুরি পোস্টে ফিফা তাদের নতুন নীতিমালার কথা স্পষ্ট করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের যেকোনো ম্যাচে সমর্থকেরা সর্বোচ্চ ৫৯০ মিলি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি নরম প্লাস্টিকের, ফ্যাক্টরি-সিলড ওয়ানটাইম পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারবেন। তবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে কোনোভাবেই শক্ত প্লাস্টিক কিংবা ধাতব (মেটাল) তৈরি পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার অনেক শহরেই বিশ্বকাপের সময় তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে পানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতেই চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কারণ আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে পানি ও জুস সরবরাহের একচেটিয়া দায়িত্বে রয়েছে ফিফার দীর্ঘদিনের স্পনসর কোকা-কোলা।
বিষয়টি শুধু খেলাধুলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়িয়েছে রাজনীতিতেও। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই প্রচণ্ড গরম শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দর্শকেরা কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হবেন”।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিফার এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেন এবং একে স্রেফ ‘টাকা কামানোর একটি কৌশল’ বলে তীব্র সমালোচনা করেন।
অবশেষে আন্তর্জাতিক এই চাপের মুখে নতিস্বীকার করে নরম প্লাস্টিকের বোতলের অনুমতি দিতে বাধ্য হয় ফিফা।