সিলেট টেস্ট
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৭ রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: গেটি ইমেজেস
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। দিনের শেষভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ৪৩৭ রান। পাকিস্তানকে জিততে হলে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। টেস্টে সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য জয়ের বিশ্বরেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের কল্যাণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছে ৩৯০ রান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের সাথে লিটন দাসও খেলেছেন ৬৯ রানের ইনিংস।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড থাকায় শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল টাইগাররা। তবে সকালের শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় দল। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রান করে ফেরেন তিনি। তখন দলের সংগ্রহ ১১৬ রান।
এরপর পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক ও লিটন। ধীরে ধীরে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন দুজন। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২০৩ রান। লিটন ছিলেন ৪৮ রানে অপরাজিত, আর মুশফিক খেলছিলেন ৩৯ রানে।
দ্বিতীয় সেশনে নেমেই ফিফটি তুলে নেন লিটন। খুররম শাহজাদের এক চমৎকার কভার ড্রাইভে ৬৭ বলে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম অর্ধশতক। অন্য প্রান্তে মুশফিকও তুলে নেন নিজের ৩০তম টেস্ট ফিফটি।
তবে বড় জুটিটি ভাঙেন হাসান আলী। ৬৯ রান করা লিটন সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার ৯২ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার। মুশফিক-লিটন জুটিতে এসেছিল ১২৩ রান।
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে আবারও ইনিংস এগোনোয় মন দেন মুশফিক। তবে ষষ্ঠ উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়ার পর মিরাজকে ফিরিয়ে দেন খুররম শাহজাদ। ১৯ রান করা মিরাজ বোল্ড হলে বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে।
এর মাঝেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিক। তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি।
মিরাজের পর ক্রিজে আসেন তাইজুল। তাকে নিয়েই নিজের ইনিংস বড় করতে থাকেন মুশফিক। ইনিংসের ৮৪তম ওভারে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এখন মুশফিকুর রহিমের (১৪)।
তাইজুল মুশফিকের ৭৭ রানের জুটি ভাঙেন সাজিদ খান। এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন-শরীফুল। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৯০ রানে। আগের ৪৬ রান নিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় রেকর্ড ৪৩৬ রান।