সিলেটে টেস্ট
তাইজুল-নাহিদ নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। ছবি: ইএসপিএন ক্রিকইনফো
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিংয়ে পুরো ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম দুই সেশনেই ৪টি করে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলেছে বাংলাদেশি বোলাররা। প্রথম দুই সেশনে ৪টি করে উইকেট হারানোর পর, তৃতীয় সেশনে পাকিস্তান খেলেছে মাত্র ১৬ বল। তাদের ইনিংস থেমেছে ২৩২ রানে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭৮ করায় লিড হয়েছে ৪৬ রানের।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় বাংলাদেশের |
দিনের শুরুতে পাকিস্তানের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ২১ রান। তবে মেঘলা আবহাওয়ায় নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। দিনের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই তিনি ফেরান আব্দুল্লাহ ফজলকে। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় উইকেটকিপার কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।
এরপর আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকেও ফেরান তাসকিন। শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। দুজন মিলে জুটি গড়েন ৩৮ রানের। তবে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শর্ট কাভারে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২১ রান করে ফেরেন মাসুদ।
এরপর সৌদ শাকিলকেও ফেরান মিরাজ। সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের আগায় লেগে বল তুলে দেন লিটনের হাতে। তিনি করেন ৮ রান।
একপ্রান্তে অবশ্য ইতিবাচক ব্যাটিং চালিয়ে যান বাবর। লাঞ্চ বিরতিতে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৬ রান। বাবর তখন ছিলেন অপরাজিত।
বিরতির পর দ্বিতীয় সেশনেও পাকিস্তানের ওপর চাপ ধরে রাখে বাংলাদেশ। বাবর আজম ফিফটি তুলে নিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নাহিদ রানার বলে মিড-অনে ক্যাচ তুলে ৬৮ রানে ফেরেন তিনি।
এরপর ঘূর্ণিতে ধস নামান তাইজুল ইসলাম। তিনি একে একে ফেরান সালমান আগা, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হাসান আলীকে। সালমান ২১, রিজওয়ান ১৩ এবং হাসান আলী ১৮ রান করেন।
দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তান ১১০ রান যোগ করলেও হারিয়েছে আরও ৪ উইকেট। এই সেশনে তিন উইকেট নিয়েছেন তাইজুল, একটি গেছে নাহিদ রানার ঝুলিতে।
চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই আউট হন শেহজাদ। ১০ রান করে ফেরেন তিনি। খুররম শেহজাদের পর সাজিদ খানের উইকেটও নিয়েছেন নাহিদ রানা। ২৮ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেছেন সাজিদ। আগের ওভারে তাইজুলকে টানা তিন ছক্কা মারা সাজিদ নাহিদের বলে থার্ড ম্যানে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে দিনের তৃতীয় সেশনে মাত্র ১৬ বল টিকেছে পাকিস্তান। তাদের ইনিংস থেমেছে ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
তাইজুল-নাহিদ নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট, তাসকিন মিরাজ নিয়েছেন ২টি করে।