প্রথম আলো
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬ ১৩:৩৮ পিএম
সাকিব আল হাসান। ছবি: প্রথম আলো
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক মামলা থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে এক কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এমন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি নন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘প্রথম আলো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। মুঠোফোনে প্রথম আলোর ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মাহমুদ এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
একটি মহল থেকে টাকাপয়সার বিনিময়ে আপনাকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, এটা কি ঠিক?- এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, “হ্যাঁ, এ রকম একটা প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে যে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। তবে যে বা যারা টাকাটা দাবি করছে, তাদের ধারণা নেই যে কেসটা যেহেতু করে ফেলেছে, এখন চাইলেও তারা নাম ওঠাতে পারবে না। বা তারা ওঠালেও পুলিশ যে ওঠাবে বিষয়টা তা না। আলটিমেটলি পুলিশের থেকেই এটার ক্লিয়ারেন্স আসতে হবে যে আমার কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না।”
সাকিব বলেন, “এফআইআরে বাদীপক্ষে যার নাম আছে যোগাযোগ করার জন্য, তিনি দু-একজনের মাধ্যমে যোগাযোগটা করেছেন। কাদের মাধ্যমে, আমি তাদের নাম বলতে চাচ্ছি না।”
তিনি বলেন, “এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।”
সাকিব বলেন, আমার ধারণামতে আমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা। তিনটার ভেতরেই চারটা আরকি। মানে একটার ভেতরেই দুইটা মনে হয়… এ রকম কিছু। আমি আইনগতভাবে যা করা সম্ভব, করছি। আশা করি, অন্তত একটা বিষয় খুব তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে যাবে। খুবই তাড়াতাড়ি। এরপর থাকবে দুইটা কেস।”
এই দেড়-দুই বছরে কখনো কি মনে হয়েছে আপনার আরও ভালোভাবে চিন্তাভাবনা করে রাজনীতিতে আসা উচিত ছিল- এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, “না, আমার মনে হয় ঠিক ছিল, ঠিক আছে, ঠিকই থাকবে। আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না; ১ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর পরে মনে হয় যে সেটাই ঠিক ছিল। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে আমি একটা নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। আর ক্রিকেট যখন খেলেছি, সারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি। তারা এই পার্থক্যটা করতে পারেন না।”
রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আগে ভাবতাম সিদ্ধান্ত নিলেই হয়তো সিস্টেমের অনেক কিছু বদলে ফেলা সম্ভব। এখন মনে হয় আরও বেশি কিছু করার দরকার আছে। রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলানোরও দরকার আছে। আমাদের দেশের অনেক মানুষ মনে করে, রাজনীতি খারাপ জিনিস। কিন্তু রাজনীতি ছাড়া তো কোনো কিছু বদলানো সম্ভব নয়। আমি বুঝি না যে রাজনীতিটা কীভাবে খারাপ জিনিস হলো? এখানে তো মানুষের সেবা করার সুযোগ আছে।”
দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে কি না- জানতে চাইলে সাকিব বলেন, “হ্যাঁ, তারাই যোগাযোগ করে, আছে। একটা যোগাযোগ তো থাকেই।”
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে তো আমি ফিরতে চাইলে এখনও ফিরতে পারব। আমি চাই মোটামুটি একটা নিরাপত্তা আর দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা ওঠানো, যেটা খুবই সম্ভব। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। এবং অবশ্যই নিরাপত্তা, এই দুইটা জিনিস আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
কী ধরনের নিরাপত্তা চান- এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, “স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা তো লাগেই। মব হতে পারে, যেকোনো সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, কত কিছুই তো হতে পারে। মানুষের কিছু রাগ থাকতেই পারে। বা কেউ ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু করতে পারে। আমি বুঝি, গ্যারান্টি দিলেও অনেক সময় অনেক কিছু ঘটে, সেটা অন্য জিনিস। তারপরও একটা আছে না যে কেউ আশ্বাস দিয়ে বলছে, বিপদ হলে দেখবে বা অন্তত আমার একটা বলার জায়গা থাকা। এটুকু অনুরোধ তো আমার থাকতেই পারে।”