প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ১৯:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬ ১৯:৫৯ পিএম
আলেয়ার স্বপ্ন সে একদিন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে খেলবে। ছবি : যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
নাটোরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির ছোট্ট এক কিশোরী এখন স্থানীয় ফুটবলের আলোচিত নাম। দারিদ্র্য, সীমাবদ্ধতা আর সংগ্রামকে সঙ্গী করেই স্বপ্ন দেখছে সে-একদিন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে খেলবে। সেই স্বপ্নের নাম আলেয়া খাতুন।
কৃষক পরিবারের এই মেয়ে বর্তমানে পড়াশোনা করছে লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে। সংসারে চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বড় হতে গিয়ে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর বাবার অনুপ্রেরণা তাকে থামতে দেয়নি। এখন নিয়মিত অনুশীলন করছে নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমিতে, কোচ জুয়েলের তত্ত্বাবধানে।
সম্প্রতি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছে আলেয়া। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিল তার একক আধিপত্য। টানা তিন ম্যাচে তিনটি হ্যাটট্রিক করে লালপুর উপজেলাকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পাশাপাশি নিজেও হয়েছে নাটোর জেলার সেরা নারী ফুটবলার।
প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে একাই করে তিন গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়ার জালেও পাঠায় হ্যাটট্রিক, যেখানে লালপুর জেতে ৬-০ ব্যবধানে। ফাইনালেও থামেনি তার পায়ের জাদু। গুরুদাসপুরের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে আবারও হয়ে ওঠে দলের মূল ভরসা।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে আলেয়া ভবিষ্যতে দেশের ফুটবলে বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন- লাল-সবুজের জার্সি পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
অভাবের ঘর থেকে উঠে আসা এই কিশোরীর গল্প তাই এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি গ্রামবাংলার হাজারো স্বপ্নবাজ মেয়ের লড়াই আর সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
আরকে/প্রবা