প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১৮:০৮ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১৮:৩৬ পিএম
প্রথম ইনিংসে চারশোর্ধ্ব রান করেও ছন্নছাড়া বোলিং ও বাজের ফিল্ডিংয়ের কারণে দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। ছবি: গেটি ইমেজেস
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান। সকালে বল হাতে বাংলাদেশের শেষ ৬ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ৪১৩ রানে আটকে দেয় সফরকারীরা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করেছে ১৭৯ রান তুলে।
যদিও দিন শেষে পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের চেয়ে ২৩৪ রানে পিছিয়ে। তবে এখনও হাতে আছে ৯ উইকেট। ওপেনার আজান আওয়াইস ৮৫ ও আবদুল্লাহ ফাসাল ৩৭ রানে অপরাজিত আছেন।
এদিন সকালে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের প্রথম দেড় সেশনে মাত্র ১১২ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।
নিজের ৩৯তম জন্মদিনে মুশফিকুর রহিম লড়াই করেছেন একাই। ১৭৯ বলে ৮ চারে ৭১ রান করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার ফিফটি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন। তবে শতকের আশা শেষ হয়ে যায় শাহিন আফ্রিদির দারুণ ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে।
লিটন দাস ৩৩ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১০, আর তাইজুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান।
শেষ পর্যন্ত ১১৮তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে তাসকিনের উইকেটের মধ্য দিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
জবাবে দৃঢ় শুরু করে পাকিস্তান। ব্যাট হাতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল পাক ব্যাটারা। বাংলাদেশের পেসাররা কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেননি ফিল্ডাররা। বিশেষ করে স্লিপে একাধিক ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ায় চাপ তৈরি করা যায়নি।
ওপেনার ইমাম উল হক ও আজান আওয়াইস মিলে গড়েন ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁহাতি ব্যাটার আজান দারুণ আত্মবিশ্বাসে খেলেন। ২১তম ওভারে ইবাদতের বলে টানা দুই চারে পাকিস্তানের স্কোর ১০০ পার করানোর পর তুলে নেন নিজের অভিষেক ফিফটি।
শেষে মিরাজের এলবিডব্লিউর শিকার হন ইমাম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি পাকিস্তানি ওপেনার। ৭২ বলে ৪৫ রান করেন তিনি।
এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন আজান ও অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল। আজান দিনের খেলা শেষ করেন ৮৫ রানে, আর ফজল অপরাজিত থাকেন ৩৭ রানে।
দিনজুড়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ছিল ফিল্ডিং। স্লিপে হাতছাড়া হয়েছে একাধিক ক্যাচ। বোলিংয়েও ছিল ছন্নছাড়া ভাব। পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২২ ওভার। দিনের একমাত্র সাফল্যও সেটি। তাই প্রথম ইনিংসে চারশোর্ধ্ব রান করেও দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।