প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১৪:২১ পিএম
মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালটা নিজেদের করেছিল বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি
মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন শেষে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখলেও, দ্বিতীয় দিনের প্রথম দেড় সেশনে পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে গতি হারায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আহমেদের ঝড়ো ক্যামিও ইনিংসে চারশ পার করে নাজমুল শান্তর দল।
৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শনিবার মাত্র ৩২ ওভার ১ বল ব্যাট করেই বাকি ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। বোর্ডে যোগ হয় ১১২ রান।
যদিও দ্বিতীয় দিনে একসময় ৪০০ রানও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। তবে শেষ উইকেটে তাসকিন ও নাহিদ রানার ৩৯ বলে ২৯ রানের জুটি সেই শঙ্কা দূর করে।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন মুশফিকুর রহিম। নিজের ৩৯তম জন্মদিনে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৯তম টেস্ট ফিফটি। শাহিন আফ্রিদির বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি স্পর্শ করার মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব টেস্ট ইনিংসের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
মুশফিক শেষ পর্যন্ত ১৭৯ বলে ৭১ রান করেন, ইনিংসে ছিল ৮টি চার। উইকেটের আচরণ কঠিন হয়ে উঠলেও ধৈর্য ধরে একপ্রান্ত আগলে রাখেন তিনি। মধ্যাহ্নভোজের আগে তার সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জোরালো ছিল। কিন্তু বিরতির পরই শাহিন আফ্রিদির দারুণ ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
প্রথম ইনিংসে শুরুটা দারুণ করেছিলেন লিটন দাস। এক ওভারে শাহিনকে টানা তিনটি চারও মারেন তিনি। তবে জীবন পাওয়ার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে বিলাসী শট খেলতে গিয়ে ৬৭ বলে ৩৩ রানে ক্যাচ দেন তিনি।
এরপর মাত্র ১০ রান করে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল ইসলাম করেন ১৭ রান। দলীয় ৩৮৫ রানে নবম উইকেট হারানোর পর ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল বটে। কিন্তু তাসকিন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতি বদলে দেন। ১ ছক্কা ও ৩ চারে মাত্র ১৯ বলে ২৮ রান করেন তিনি। বিশেষ করে আব্বাসকে স্ট্রেট দিয়ে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের স্কোর ৪০০ পার করান এই পেসার।
শেষ পর্যন্ত ১১৮তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে স্লিপে সৌদ শাকিলের দারুণ ক্যাচে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার এটা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লিটন, মিরাজ, তাইজুল ও এবাদতের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রান তোলার গতি থামিয়ে দেন এই ডানহাতি পেসার।
অন্যদিকে শাহিন আফ্রিদি ৩১ ওভার ১ বলে ১১৩ রান খরচ করে নেন ৩ উইকেট। হাসান আলী ও নোমান আলী নেন একটি করে উইকেট।