ব্যাট উঁচিয়ে নিজের ষষ্ঠ ফিফটি উদযাপন করছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, পাশেই মুমিনুল হক। ছবি: ইএসপিএনক্রিকইনফো
সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেটে পাকিস্তানি পেসারদের তোপে শুরুতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। তবে অভিজ্ঞ মুমিনুল হককে সঙ্গে নিয়ে সেই পরিস্থিতি ভালোভাবে সামলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করেছে স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক শান মাসুদ। ঘাসে মোড়া উইকেটে শুরু থেকেই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছিলেন পাকিস্তানের পেসাররা। নতুন বলে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস।
তবে আফ্রিদির করা ম্যাচের প্রথম ওভারেই দুই বাউন্ডারিতে ৮ রান তুলে ইতিবাচক শুরু করেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভয়ংকর হয়ে ওঠে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ।
পঞ্চম ওভারে জীবন পান মাহমুদুল। আফ্রিদির বলে প্রথম স্লিপে সহজ ক্যাচ ফেলে দেন সালমান আগা। তখন মাহমুদুলের রান ছিল মাত্র ৪। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। সপ্তম ওভারে আফ্রিদির অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন মাহমুদুল। ১৯ বলে ৮ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। সেই উইকেটের মধ্য দিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন আফ্রিদি।
এরপর দ্রুতই আরেক ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। একাদশ ওভারে আক্রমণে এসেই প্রথম বলে হাসান আলীর সিম মুভমেন্টে পরাস্ত হন সাদমান ইসলাম। তৃতীয় স্লিপে সালমান আগার হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩০ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। দলীয় ৩৬ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন মুমিনুল ও শান্ত। শুরুতে ধৈর্যের পরীক্ষা দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকেন। ২২ ওভারে দুজনের জুটিতে আসে অর্ধশত রান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
২ উইকেটে ১০১ রান মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে তখন মুমিনুল ও শান্তর অবিচ্ছিন্ন জুটি ৭০ রান। প্রথম ৫০ রান তুলতে বাংলাদেশ খেলেছিল ১০২ বল, কিন্তু পরের ৫০ আসে মাত্র ৫২ বলে।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন শান্ত। ৩১তম ওভারে হাসান আলীর শর্ট বল দুর্দান্ত পুল শটে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূর্ণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১ ছক্কা ও ৬ চারে ৭১ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে সমান দায়িত্বশীল ছিলেন মুমিনুল। ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে ইনিংস গড়তে থাকা এই বাঁহাতি ৪২তম ওভারে নোমান আলীর বলে দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি পূর্ণ করেন। ১০২ বলে মাইলফলকে পৌঁছানো মুমিনুলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০৮ বলে ৮২ রানে অপরাজিত আছেন শান্ত। ১১৪ বলে ৫২ রানে আছেন মুমিনুল।