জয়ে চোখ দুই দলের
শেখ সাদী
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ০৮:৫৯ এএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১০:৩৬ এএম
ট্রফি হাতে দুই অধিনায়েকের ফটোসেশন। ছবি: বিসিবি
দীর্ঘ ছয় মাস পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ।
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে শুক্রবার গড়াবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
ম্যাচ শুরু হবে সকাল ১০টায়। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলে জিততে চায় বাংলাদেশ।
সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতি নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সেসবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ফল নয়, প্রক্রিয়ার দিকেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি।
২০২৫ সালের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর আর কোনো টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। এর মধ্যে ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা ছিল সাদা বলের ক্রিকেটে।
টেস্ট দলে থাকাদের কেউ কেউ খেলতে পেরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) মাত্র একটি রাউন্ড।
আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা ও ঘরোয়া ক্রিকেটের জটিলতায় সবার জন্য পর্যাপ্ত লাল বলের ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেন, “যারা সাদা বলের ক্রিকেট খেলছিলেন, তারা যদি লাল বলের ম্যাচ খেলতে পারতেন তাহলে আরও উপকার হতো। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতিটাও বুঝতে হবে।
“সত্যি বলতে, সেই সুযোগটা আমাদের ছিল না। যারা অনেক দিন ধরে খেলছেন, তারা মানসিকভাবে জানেন পরের সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুত হতে হয়।”
শান্ত যোগ করেন, “ধীরে ধীরে তারা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করেন। আমরা কয়েক দিন অনুশীলনের সুযোগও পেয়েছি। তাই প্রস্তুতি নিয়ে আমি কোনো অজুহাত দিতে চাই না।”
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। এবারও কি সেই লক্ষ্য?
এমন প্রশ্নে শান্ত জানালেন, তিনি হোয়াইটওয়াশ নয়, পুরো সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনও হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ভাবি না। এটা ১০ দিনের লড়াইÑ প্রতি টেস্ট পাঁচ দিনের।
“এই ১০ দিনে কীভাবে আমরা তাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারি, সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। ফল নিয়ে ভাবার চেয়ে প্রক্রিয়াটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে ঢাকায় এসেছে পাকিস্তান দল।
অতীত ভুলে বর্তমান নিয়েই ভাবছেন শান মাসুদ।
পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ বলেন, প্রতিশোধ নিয়ে ভাবতে চাই না। ওরা যেভাবে আমাদের টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে, বাংলাদেশকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা অবশ্য এই কন্ডিশনে ভালো। তবে ভালো খেলেই জিতেছে।
বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শানের ভাষায়, “আমরা জানি ওদের শক্তিমত্তার ব্যাপারে। মুলতানে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েও ম্যাচ জিতেছিল। আমরা কাউকে হালকাভাবে নেব না।
“আবার প্রতিশোধের কথাও ভাবছি না। ভালো খেলে জিততে চাই। ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চাই।”
সামগ্রিক পরিসংখ্যান হিসাব করলে পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই টেস্টে বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী।
এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৫ টেস্টে। এর মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ১২টিতেই, একটি টেস্ট ড্র হয়েছে। বাংলাদেশের জয় দুই টেস্টে।
তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য আশার খবর। জয় পাওয়া ওই দুই টেস্টই সবশেষ পরিসংখ্যান।
অর্থাৎ সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে ওই দুই টেস্ট জিতে এসেছিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো তাদের ঘরে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তিও সেটি।
দুটি টেস্টই হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডিতে। প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ, দ্বিতীয় টেস্টে টাইগারদের জয় ৬ উইকেটে।